
Hotel Like Chutney: সমোসা হোক বা গরম গরম পকোড়া, কিংবা সকালের ধোঁয়া ওঠা পরাটা বা স্যান্ডউইচ। পাতে যদি একটুখানি খাঁটি ধনেপাতা-পুদিনার চাটনি না থাকে, তবে ভারতীয় খাবারের ঠিক জমে না। কিন্তু গৃহিণীদের হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও ঘরের তৈরি চাটনিতে রেস্তোরাঁ বা হোটেলের মতো সেই গাঢ় সবুজ রং, চমৎকার সুগন্ধ আর জিভে জল আনা ঘন টেক্সচার কিছুতেই আসতে চায় না।
ফ্রিজে রাখলেই কেমন যেন কালচে বা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। আপনিও কি এই সমস্যায় পড়েন? তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার রান্নার ধরন বদলে দেবে। কিছু সহজ ঘরোয়া টিপস আর সঠিক উপাদানের জাদুকরী অনুপাত জানলেই এবার থেকে আপনার হাতের চাটনিও টেক্কা দেবে নামী রেস্তোরাঁকে।
হোটেল স্টাইলের স্বাদ ও সুগন্ধ ঘরে আনার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে একদম তাজা উপকরণের মধ্যে। চাটনি বানানোর জন্য প্রথমে এক আঁটি একদম তাজা ও সবুজ ধনেপাতা নিন। তার সঙ্গে মেশাতে হবে সামান্য পরিমাণ পুদিনা পাতা, যা চাটনিতে একটা দারুণ রিফ্রেশিং সুবাস ও ঠান্ডা ভাব আনবে। ঝালের জন্য দিন ২-৩টি কাঁচালঙ্কা, সামান্য আদা এবং ৪-৫ কোয়া রসুন। সবশেষে যোগ করুন স্বাদমতো নুন। তবে শেফদের আসল ‘সিক্রেট’ কিন্তু অন্য জায়গায়। রেস্তোরাঁর চাটনির সেই মনমাতানো স্বাদের প্রধান রহস্য হলো ভাজা জিরে গুঁড়ো। এটি চাটনির ফ্লেভার পুরোপুরি বদলে দেয়। আর চাটনিকে ঘন, থকথকে ও ক্রিমি করার জন্য অনেক হোটেলেই মেশানো হয় ভাজা চিনা বাদাম অথবা সামান্য টক দই। এতে চাটনির টেক্সচার ও স্বাদ দুই-ই বহুগুণ বেড়ে যায়।
এবার আসা যাক চাটনির সেই উজ্জ্বল সবুজ রং দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার আসল ট্রিক্সে। মিক্সিতে বা ব্লেন্ডারে যখন চাটনি পেষা হয়, তখন ব্লেডের ঘূর্ণনের ফলে একটি তাপ উৎপন্ন হয়, যা পাতার সবুজ রং নষ্ট করে দেয়। তাই চাটনি ব্লেন্ড করার সময় মিক্সিতে দিয়ে দিন ১-২ টুকরো বরফ এবং সামান্য পাতিলেবুর রস। এই বরফ ব্লেন্ডারের ভেতরের গরম ভাবকে নিমেষে কমিয়ে দেয়, যার ফলে চাটনি চট করে কালো হয়ে যায় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে একেবারে উজ্জ্বল সবুজ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য জল দিয়ে চাটনিটি একদম মিহি করে পিষে নিন। ব্যাস, তৈরি আপনার রেস্তোরাঁ স্টাইল চাটনি! এবার এটি একটি এয়ারটাইট কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। ২-৩ দিন পর্যন্ত এই চাটনির স্বাদ ও রং একদম অটুট থাকবে। যেকোনো দেশি খাবার কিংবা মুখরোচক জঙ্ক ফুডের সঙ্গে এটি অনায়াসে পরিবেশন করতে পারেন।