
বিকেলের আড্ডা হোক বা সন্ধ্যার হালকা খিদে, বাঙালির মুড়ি মাখার জবাব নেই। পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, সর্ষের তেল আর চানাচুর মিশিয়ে তৈরি এই জলখাবার বহু বাড়ির রোজকার সঙ্গী। তবে একই ধরনের মুড়ি মাখা খেতে খেতে অনেকেরই একঘেয়েমি আসে। স্বাদে বদল আনতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি মশলার সঠিক ব্যবহারেই মুড়ি মাখার স্বাদ অনেকটা বাড়ানো যায়। বিশেষ করে ভাজা জিরের গুঁড়ো, বিট নুন এবং সামান্য চাট মশলা মেশালে মুড়িতে আসতে পারে অন্য রকম স্বাদ।
প্রথমেই আসা যাক ভাজা জিরের গুঁড়োয়। শুকনো কড়াইয়ে অল্প জিরে ভেজে ঠান্ডা করে গুঁড়ো করে নিন। মুড়ি মাখার উপর সামান্য ছড়িয়ে দিন। জিরের নিজস্ব গন্ধ মুড়ির স্বাদে আলাদা মাত্রা যোগ করে। যাঁরা একটু টক-ঝাল স্বাদ পছন্দ করেন, তাঁরা অল্প চাট মশলাও দিতে পারেন। এতে লেবুর মতো টক ভাব এবং মশলার ঝাঁঝ পাওয়া যায়।
আরও একটি উপকরণ হল বিট নুন। সাধারণ নুনের বদলে অল্প বিট নুন দিলে মুড়িতে হালকা টক-নোনতা স্বাদ আসে। তবে বেশি দিলে স্বাদ নষ্ট হতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। চাইলে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়োও মেশানো যায়। এতে ঝাঁঝ বাড়বে। কাঁচালঙ্কার সঙ্গে এই মশলার মিশ্রণ বেশ ভাল লাগে।
মুড়ি মাখার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, মুড়ি যেন মুচমুচে থাকে। তাই খাওয়ার ঠিক আগে মশলা, পেঁয়াজ, শসা, চানাচুর এবং সর্ষের তেল মেশান। আগে থেকে মিশিয়ে রাখলে মুড়ি নরম হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে অনেক মশলা দেবেন না। অল্প অল্প করে মিশিয়ে নিজের পছন্দের স্বাদ তৈরি করুন।
তবে মনে রাখবেন, বেশি নুন বা মশলা খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সামান্য ভাজা জিরে, বিট নুন আর চাট মশলাতেই বদলে যেতে পারে চেনা মুড়ি মাখা।