
আসছে শীত। আর শীতের দুপুরে গরমাগরম পরোটা, আলুর তরকারি আর সঙ্গে ঝালঝাল আচার থাকলে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। খাবারের সঙ্গে কাঁচালঙ্কার আচার খেতে অনেকেই ভালবাসেন। বাজার থেকে না কিনে বাড়িতেই বানিয়ে নিন এই আচার। সবচেয়ে বড় কথা, এই আচার তৈরিতে একফোঁটাও তেল লাগবে না। বাড়িতে থাকা কয়েকটি মশলা, পাতিলেবু আর টাটকা কাঁচালঙ্কা দিয়েই সহজে বানিয়ে নিতে পারবেন এই পদ। ডাল, ভাত থেকে শুরু করে পরোটা বা রুটি, সব কিছুর সঙ্গেই দারুণ মানাবে এই টকঝাল আচার।দেখে নিন, কীভাবে সহজেই বানাবেন তেল ছাড়া কাঁচালঙ্কার আচার।
তেল ছাড়া কাঁচালঙ্কার আচার বানাতে কী কী লাগবে?
টাটকা কাঁচালঙ্কা: প্রয়োজনমতো
জিরে: ১ টেবিল চামচ
মৌরি: ১ টেবিল চামচ
মেথি: ১ চা চামচ
কালো জিরে: ১ চা চামচ
সর্ষে: ১ টেবিল চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো: ১ টেবিল চামচ
নুন: স্বাদমতো
পাতিলেবু: ১টি
যেভাবে বানাবেন আচার
একটি প্যানে জিরে, মৌরি এবং মেথি দিয়ে কম আঁচে হালকা ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন, মশলাগুলি যেন পুড়ে না যায়। মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে গ্যাস বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। ভাজা মশলাগুলি ঠান্ডা হয়ে গেলে মোটা করে গুঁড়িয়ে নিন। একেবারে মিহি গুঁড়ো করার প্রয়োজন নেই। মশলা মোটা করে গুঁড়ো করলে আচারে যেমন স্বাদ বাড়বে, তেমনই খাওয়ার সময়ে হালকা মুচমুচে ভাবও পাওয়া যাবে।
এবার গুঁড়ো করা মশলার মধ্যে কালোজিরে, সর্ষে, লঙ্কাগুঁড়ো এবং নুন দিয়ে মিশিয়ে নিন। সমস্ত মশলা যেন একসঙ্গে মিশে যায়। নিজের স্বাদ অনুযায়ী নুনের পরিমাণ ঠিক করুন। বেশি ঝাল পছন্দ হলে লঙ্কাগুঁড়োর পরিমাণও বাড়িয়ে নিতে পারেন।
কাঁচালঙ্কা ভাল করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এবার লঙ্কাগুলি হালকা থেঁতো করে নিন বা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তারপর তাতে পাতিলেবুর রস মেশান। মনে রাখবেন, কাঁচালঙ্কায় যেন কোনওভাবেই জল লেগে না থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে আচার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
কাঁচালঙ্কার সঙ্গে মশলা
আগে থেকে তৈরি মশলা কাঁচালঙ্কার মধ্যে দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। কাঁচালঙ্কার প্রতিটি টুকরোয় যেন মশলা সমানভাবে লেগে থাকে। তাহলেই আচারে ঝাল, টক এবং মশলার স্বাদ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
আচার দীর্ঘ দিন রাখার উপায়
তৈরি হয়ে গেলে আচারটি পরিষ্কার এবং শুকনো কাচের বয়ামে ভরে নিন। এক দিন রোদে রাখতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বয়ামের মধ্যে যেন কোনওভাবেই জল না ঢোকে। শুধু এক দিন রোদে রাখলেই আচার দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই অল্প পরিমাণে আচার বানিয়ে ফ্রিজে রাখাই ভাল।
আচারে তেল না থাকলেই যে সেটা দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে, এমনটা নয়। সব সময়ে পরিষ্কার ও শুকনো চামচ দিয়ে আচার তুলুন এবং ফ্রিজে রাখুন। আচারে ছত্রাক, অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা দিলে আর খাবেন না।