
গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরের হজম ক্ষমতা এমনিতেই বেশ ধীর হয়ে যায়। তাই চিকিৎসকরা এই সময়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু খাদ্য রসিকদের কি আর অত শত বিধিনিষেধ মানলে চলে? গরম, শীত বা বর্ষা— আবহাওয়া যাই হোক না কেন, পাতে এক টুকরো মাংস না থাকলে অনেকেরই খাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে, বিশেষ করে ভর দুপুরে চিকেন বা মাটন খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
মাংসে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফ্যাট হজম করতে শরীরকে বেশ কসরত করতে হয়। তাই গরমে দুপুরের মেনুতে মাংস রাখা আদৌ স্বাস্থ্যকর কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। জেনে নিন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন।
শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায়
'মেডিকেল নিউজ টুডে'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার, যেমন চিকেন বা মাটন খেলে শরীরে 'থার্মোজেনেসিস' (Thermogenesis) প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটের তুলনায় প্রোটিন ভাঙতে শরীরের অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ভরদুপুরে এমনিতেই বাইরের তাপমাত্রা চরমে থাকে, তার ওপর এমন ভারী মাংস খেলে অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড় করা, হাঁসফাঁস ভাব এবং চরম অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
হজমের গোলমাল ও পেটের সমস্যা
স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'ওয়েবএমডি' (WebMD)-র বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দুপুরে আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় হার বেশ দুর্বল থাকে। মাটনের মতো 'রেড মিট'-এ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি, যা হজম হতে প্রচুর সময় নেয়। কাঠফাটা রোদে এমন গুরুপাক খাবার খেলে পেট ফেঁপে যাওয়া (ব্লোটিং), অম্বল বা অ্যাসিডিটি, বদহজম এবং পেট ভারের মতো অস্বস্তিকর সমস্যা অবধারিত।
বাড়তে পারে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি
চিকেন বা মাটন হজম করার জন্য শরীরের প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন হয়। বিপাকীয় হার বৃদ্ধি এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেকটা জল বেরিয়ে যায়। দুপুরে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাওয়ার পর যদি পর্যাপ্ত জল খাওয়া না হয়, তবে শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এর ফলে আচমকা মাথা ঘোরা, চরম ক্লান্তি বা দুর্বলতা, এমনকি ইউরিন ইনফেকশনের মতো সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
কী পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা?
আপনি যদি একান্তই মাংসপ্রেমী হন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দুপুরের পরিবর্তে রাতের খাবারে মাংস রাখাই শ্রেয়। তবে খেয়াল রাখবেন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে যেন রাতের খাওয়া শেষ হয়ে যায়।
এর পাশাপাশি, গরমে মাংস রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ও কড়া মশলার ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভাল। দুপুরে যদি একান্তই চিকেন খেতে মন চায়, তবে খুব সামান্য মশলায় বানানো হালকা গ্রিলড চিকেন বা ক্লিয়ার চিকেন স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মাটনের মতো ভারী 'রেড মিট' দুপুরের মেনু থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই এই গরমে শরীর সুস্থ রাখার আসল চাবিকাঠি।