
কাঁচকলা দিয়ে মাছের ঝোল। বাড়িতে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণেই এই রান্না করা যায়। আলাদা করে বেশি মশলা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। একটু নিয়ম মেনে করলেই এর দুর্দান্ত স্বাদ হয়। তাই সাধারণ রান্না ভেবে অবহেলা করবেন না। ঠিক করে বানালে গরম ভাতের সঙ্গে পাতলা ঝোল হলে দুপুরের খাবার জমে যায়। আসুন শিখে নেওয়া যাক।
কী কী লাগবে?
চারটি রুই বা কাতলার টুকরো নিন। এর সঙ্গে লাগবে দু’টি মাঝারি মাপের কাঁচকলা। দু’টি আলু থাকলে দিতে পারেন। লাগবে একটি টম্যাটো, কাঁচালঙ্কা, আদা বাটা এবং সামান্য হলুদ।
মশলার জন্য রাখুন জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো। গোটা জিরে ফোড়নের জন্য লাগবে। সঙ্গে নুন ও অল্প চিনি। সর্ষের তেল ব্যবহার করলে এই ঝোলের স্বাদ আরও ভাল হয়।
প্রথমে মাছ ভেজে নিন
মাছ পরিষ্কার করে নুন ও হলুদ মাখিয়ে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল ভাল গরম হলে মাছের টুকরোগুলি দিয়ে দু’পিঠ হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
মাছ একেবারে কড়কড়ে করে ভাজার দরকার নেই। বেশি ভাজলে পরে ঝোলে মাছ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কাঁচকলা ও আলু ভাজুন
এ বার কাঁচকলার খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি মাপের টুকরো করে কাটুন। আলু দিলে একই ভাবে কেটে নিন। ওই তেলেই কাঁচকলা এবং আলু সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে ভেজে নিন। রং একটু বদলালেই তুলে রাখুন।
এর পর কড়াইয়ে প্রয়োজন হলে সামান্য তেল দিন। গোটা জিরে দিয়ে ফোড়ন দিন। জিরের গন্ধ বের হলে আদা বাটা এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে নাড়ুন।
এবার ঝোল
একটি টম্যাটো কুচি দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। তার পর হলুদ, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো দিন। অল্প জল দিয়ে মশলাগুলি ভাল করে কষিয়ে নিন।
মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ভাজা কাঁচকলা ও আলু দিয়ে দিন। প্রয়োজনমতো গরম জল ঢেলে ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট রান্না করুন।
কাঁচকলা ও আলু নরম হয়ে এলে ভাজা মাছের টুকরোগুলি কড়াইয়ে ছেড়ে দিন। আরও কয়েক মিনিট ফুটতে দিন। শেষে স্বাদমতো নুন এবং এক চিমটি চিনি দিতে পারেন। কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
ঝোল খুব ঘন করবেন না। পাতলা ঝোলেই কাঁচকলা ও মাছের স্বাদ সবচেয়ে ভাল হয়। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। সঙ্গে একটু লেবু নিতে ভুলবেন না।