
Kadhi Chawal Recipe: মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু মাঝে মাঝে বাঙালিও নিরামিষ খায়। অনেকেই শনিবার, অমাবস্যা, পূর্ণিমা বা অন্য কোনও দিন নিরামিষ খান। কিন্তু নিরামিষ বলতে সবাই সেই পনিরই বোঝেন। আজ একটু ভিন্ন স্বাদের, মজাদার রেসিপি পাবেন। বানানোও সহজ। বাড়িতে খুব সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন কাড়ি চাওয়াল। টক-মশলাদার কাড়ির(উচ্চারণ 'কারহি') সঙ্গে গরম ভাত। এই কম্বিনেশন খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই পেট ভরানো খাবার।
কাড়ি চাওয়াল মূলত উত্তর ভারতীয় জনপ্রিয় একটি পদ। দই এবং বেসন দিয়ে তৈরি হয় কাড়ি। তার সঙ্গে থাকে গরম ভাত। খুব বেশি কিছু লাগে না। বাড়ির রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি জিনিস দিয়েই তৈরি করা যায়। নিরামিষ দিনে দুপুরের জন্য বেশ ভাল।
কাড়ি চাওয়াল বানাতে কী কী লাগবে?
কাড়ির জন্য প্রয়োজন টক দই, বেসন, হলুদ, নুন, লঙ্কার গুঁড়ো এবং সামান্য ধনে গুঁড়ো। ফোড়নের জন্য লাগবে সর্ষে, জিরে, শুকনো লঙ্কা, হিং এবং কারিপাতা।
ভাতের জন্য সাধারণ চালই যথেষ্ট।
প্রথমে কাড়ির গ্রেভি
একটি বড় পাত্রে টক দই নিন। তার মধ্যে বেসন এবং প্রয়োজন মতো জল দিন। এবার ভাল করে ফেটিয়ে নিন। কোনও দানা যেন না থাকে। মিশ্রণটি খুব ঘন করবেন না। রান্নার পরে কাড়ি আরও কিছুটা ঘন হবে।
এর মধ্যে হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো এবং নুন মিশিয়ে দিন। চাইলে সামান্য ধনে গুঁড়োও দেওয়া যায়।
এবার কড়াইয়ে সামান্য তেল বা ঘি গরম করুন। তাতে সর্ষে, জিরে, শুকনো লঙ্কা, হিং এবং কারিপাতা দিন। ফোড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোলে আঁচ বন্ধ করে একটু ঠান্ডা হতে দিন। দই-বেসনের মিশ্রণ ঢেলে দিন।
কাড়ি রান্নার সময় এই ভুল করবেন না
মিশ্রণ কড়াইয়ে দেওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট ভাল করে নাড়তে হবে। না হলে দই কেটে যেতে পারে বা বেসন তলায় লেগে যেতে পারে। খুব কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন।
কাড়ি ফুটতে শুরু করলে আঁচ কমিয়ে দিন। প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট রান্না করতে পারেন। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন। ধীরে ধীরে কাড়ির কাঁচা বেসনের গন্ধ চলে যাবে। তখন বুঝবেন রান্না প্রায় তৈরি।
স্বাদ দেখে প্রয়োজন হলে নুন বা সামান্য টক দই যোগ করতে পারেন। কাড়ির আসল স্বাদ হল টক, ঝাল এবং মশলার সুন্দর ব্যালেন্স। তাই কোনও একটি উপকরণ বেশি দেবেন না।
সঙ্গে থাকবে গরম ভাত
এবার আলাদা পাত্রে ভাত রান্না করে নিন। ভাত ঝরঝরে হলে খেতে আরও ভাল লাগবে। প্লেটে গরম ভাত নিয়ে তার উপর ঢেলে দিন গরম কাড়ি।
চাইলে উপরে সামান্য ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন। সঙ্গে পাপড়, আলুভাজা বা একটু আচার থাকলে স্বাদ আরও বাড়বে।
খুব পুষ্টিকর
কাড়ির প্রধান উপকরণ দই এবং বেসন। দই থেকে পাওয়া যায় প্রোটিন ও ক্যালশিয়াম। অন্য দিকে বেসনে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। ভাত শরীরকে কার্বোহাইড্রেট দেয়। ফলে কাড়ি চাওয়াল পেট ভরানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন খাবারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি যোগ করে।
তবে কাড়িতে কতটা তেল, দই ও বেসন ব্যবহার করছেন, তার উপর খাবারটির মোট ক্যালরি নির্ভর করে। তাই হালকা খাবার চাইলে তেল কম ব্যবহার করাই ভাল।