
Fish Curry With Kalonji: বাঙালির দুপুরের পাতে গরম মাছের ঝোল। এর থেকে সুখের জিনিস কী আছে বলুন তো? অথচ এই মাছের ঝোল হাজারো রকমের হয়। প্রতিটি বাড়ির মাছের ঝোলের স্বাদ আলাদা। আজ তেমনই এক ভিন্ন স্বাদের মাছের ঝোলের রেসিপি জানতে পারবেন। খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায়। বাড়িতেই সব থাকে। রোজকার পাতলা ঝোলের বদলে যদি একটু অন্যরকম স্বাদ চান, তা হলে এক বার বানিয়ে দেখতে পারেন। কালোজিরে ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে এই মাছের ঝোল। ঝোলের মধ্যে কালোজিরের সুন্দর গন্ধ, পেঁয়াজের মিষ্টি স্বাদ আর সর্ষের তেলের ঝাঁঝ মিলে ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে। এই রান্নায় খুব বেশি মশলারও প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি উপকরণেই হয়ে যাবে জমজমাট দুপুরের রান্না। তবে শুরুতেই জানিয়ে রাখি, বেশি ভাত খেয়ে ফেললে কিন্তু আমাদের দোষারোপ করবেন না!
উপকরণ:
এই রান্নার জন্য চার থেকে ছ’টুকরো রুই বা কাতলা মাছ নিন। কাতলা হলেই বেটার। সঙ্গে লাগবে দু’টি মাঝারি আলু, একটি মাঝারি পেঁয়াজ বাটা, আধা চা-চামচ কালোজিরে, দু’-তিনটি গোটা কাঁচা লঙ্কা, সামান্য আদা কুচি, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো, নুন, একটি ছোট টমেটো, ধনেপাতা এবং প্রয়োজন মতো সর্ষের তেল। মাছের ঝোলের স্বাদ ঠিক রাখতে খুব বেশি পেঁয়াজ বাটা ব্যবহার না করাই ভাল।
১. প্রথমে মাছের টুকরোগুলি ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। তার পর নুন ও হলুদ মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন।
২. এবার কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলি হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। মাছ বেশি কড়া করে ভাজার দরকার নেই।
৩. একই তেলে লম্বা করে কেটে রাখা আলুতে সামান্য নুন মাখিয়ে দিয়ে দিন। আলুর গায়ে হালকা রং ধরলেই তুলে রাখুন।
৪. এ বার কড়াইয়ে প্রয়োজন মতো আরও একটু সর্ষের তেল দিন। তেল গরম হলে কালোজিরে, গোটা কাঁচা লঙ্কা এবং সামান্য মিহি করে কাটা আদা দিয়ে ফোড়ন দিন।
৫. কয়েক সেকেন্ড পর পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ভাল করে নাড়তে থাকুন। পেঁয়াজের কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে হালকা রং ধরলে হলুদ, কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো এবং প্রয়োজন মতো নুন দিয়ে কষিয়ে নিন। মশলা যাতে কড়াইয়ে লেগে না যায়, তার জন্য অল্প জল ছিটিয়ে নাড়তে পারেন।
৬. মশলা ভাল করে কষানো হলে ভেজে রাখা আলু দিয়ে দিন। কয়েক বার নেড়ে প্রয়োজন মতো জল ঢেলে কড়াই ঢাকা দিয়ে কম আঁচে রান্না হতে দিন।
৭. আলু প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে মিহি করে কেটে রাখা টমেটো দিয়ে দিন। এ বার ভেজে রাখা মাছের টুকরোগুলি ঝোলে ছেড়ে দিন। আরও দুই-তিন মিনিট ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কালোজিরে-পেঁয়াজ বাটা দিয়ে সুস্বাদু মাছের ঝোল।
সব শেষে উপর থেকে সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। গরম ভাতের সঙ্গে এই ঝোল পরিবেশন করুন।ঝোলটা ভাতের সঙ্গে মেখে খেলে কালোজিরে, পেঁয়াজ আর সর্ষের তেলের গন্ধ আরও ভাল ভাবে পাওয়া যাবে। খুব বেশি ঝাল বা ভারী মশলা ছাড়াই এই ঘরোয়া মাছের ঝোল বানানো যায়। বয়স্করাও খেতে পারেন। এই একটি পদেই দুপুরের খাওয়া জমে যাবে। চাইলে বাটা, ট্যাংরা, পাবদা মাছও এই পদ্ধতিতে বানাতে পারেন।