
করলা দেখলেই মুখ ভার করেন? করলার তেতো স্বাদের জন্য অনেকেই এই সবজি খেতে চান না। অথচ রান্নার ধরন একটু বদলে দিলেই তেতো করলাকেও বেশ মুখরোচক করে তোলা যায়। সাধারণ করলা ভাজা খেয়ে একঘেয়ে লাগলে এ বার বাড়িতে চিনেবাদাম দিয়ে করলা ভাজা বানিয়ে দেখতে পারেন। ভাজা চিনেবাদামের কুড়মুড়ে স্বাদ এবং টক-মশলার জন্য এই পদের স্বাদই অন্যরকম।
বিশেষ করে ডাল-ভাতের সঙ্গে এই করলা ভাজা বেশ ভাল লাগে। রুটি বা পরোটার সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়। রান্নার আগে করলায় নুন মাখিয়ে রাখলে তেতো ভাবও কিছুটা কমে। ফলে যাঁরা করলা খুব একটা পছন্দ করেন না, তাঁরাও এই পদটি এক বার চেখে দেখতে পারেন।
করলা চিনেবাদাম ভাজার জন্য কী কী লাগবে?
এই রান্নার জন্য চার-পাঁচটি মাঝারি আকারের করলা, আধ কাপ ভাজা চিনেবাদাম, একটি পেঁয়াজ, এক-দু’টি কাঁচা লঙ্কা এবং এক চামচ জিরে লাগবে। মশলার জন্য আধ চামচ হলুদগুঁড়ো, এক চামচ ধনেগুঁড়ো, আধ চামচ লঙ্কাগুঁড়ো এবং আধ চামচ আমচুর গুঁড়ো নিতে হবে। স্বাদ অনুযায়ী নুন এবং দুই-তিন চামচ তেল প্রয়োজন হবে। করলার তেতো স্বাদ কিছুটা ভারসাম্য করতে চাইলে সামান্য গুড় বা চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুচমুচে করলা ভাজা কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে করলা ভাল করে ধুয়ে পাতলা গোল করে কেটে নিন। করলার তেতো স্বাদ কমাতে চাইলে কাটা করলায় সামান্য নুন মাখিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। এর পর হাত দিয়ে হালকা চেপে করলা থেকে জল বের করে নিন। পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ভাল করে শুকিয়ে রাখুন। এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ করলায় অতিরিক্ত জল থাকলে ভাজার সময় সেটি মুচমুচে হবে না।
এ বার কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে জিরে দিন। জিরে ফুটতে শুরু করলে কুচোনো পেঁয়াজ এবং কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ভাজুন। পেঁয়াজ হালকা সোনালি হয়ে এলে কাটা করলা কড়াইয়ে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে করলা ভাল করে ভাজতে থাকুন। মাঝে মাঝে নাড়বেন, যাতে কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায় এবং সব দিক সমান ভাবে ভাজা হয়।
করলা নরম হয়ে বাইরের দিকটা হালকা মুচমুচে হয়ে এলে হলুদগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো এবং নুন দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। আরও কিছুক্ষণ ভাজুন, যাতে মশলার কাঁচা গন্ধ চলে যায়।
এ বার ভাজা চিনেবাদামগুলিকে হালকা করে ভেঙে নিন। একেবারে গুঁড়ো করবেন না। চিনেবাদামের কিছুটা বড় টুকরো থাকলে খাওয়ার সময় কুড়মুড়ে ভাব বেশি পাওয়া যাবে। কড়াইয়ে চিনেবাদাম দিয়ে করলার সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে আরও দু’-তিন মিনিট ভেজে নিন।
সব শেষে আমচুর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। যাঁরা করলার তেতো স্বাদ একটু কম পছন্দ করেন, তাঁরা সামান্য গুড় বা চিনি দিতে পারেন। তবে বেশি দিলে রান্নার স্বাদ মিষ্টি হয়ে যেতে পারে। সব উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে আঁচ বন্ধ করে দিন।
তৈরি হয়ে গেল মুচমুচে করলা চিনেবাদাম ভাজা। গরম গরম সাদা ভাত ও ডালের সঙ্গে পরিবেশন করুন।