
বাঙালির রবিবারের দুপুরের মেনু মানেই গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত আর লাল রঙের কচি পাঁঠার ঝোল। স্বাস্থ্য সচেতনতা বা ডায়েটের কড়াকড়িতে আজকাল অনেকেই হয়তো রোজকার জীবনে রেড মিট একটু এড়িয়েই চলেন, কিন্তু ছুটির দিনে এই চিরাচরিত নস্টালজিয়াকে অস্বীকার করার সাধ্য কার! একেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিন্তু দুর্দান্ত স্বাদের কচি পাঁঠার ঝোলের চিরচেনা পদের রেসিপি জানুন।
কী কী উপকরণ লাগবে?
মূল উপকরণ:
কচি পাঁঠার মাংস: ৭৫০ গ্রাম (মাঝারি টুকরো করা)
আলু: ৩টি মাঝারি সাইজের (খোসা ছাড়িয়ে অর্ধেক করে কাটা)
মশলা ও অন্যান্য:
পেঁয়াজ: ১টি বড় (মিহি করে কুচোনো)
টোম্যাটো: ২টি মাঝারি (টুকরো করা)
আদা বাটা: ২ ইঞ্চি মাপের টুকরো থেকে বাটা
রসুন বাটা: ৫ কোয়া
টক দই: ২ টেবিল চামচ
গোটা গরম মশলা: ছোট এলাচ (৪টি), দারুচিনির স্টিক (১টি বড়), লবঙ্গ (৩-৪টি)
তেজপাতা: ২টি বড়
গুঁড়ো মশলা: হলুদ গুঁড়ো (দেড় চা চামচ), লাল লঙ্কা গুঁড়ো (১ চা চামচ), ধনে গুঁড়ো (২ চা চামচ), জিরে গুঁড়ো (দেড় চা চামচ)
গরম মশলা গুঁড়ো: ১ চা চামচ
ঘি: ১ টেবিল চামচ (গাওয়া ঘি হলে স্বাদ ভালো হয়)
তেল: রান্নার জন্য প্রয়োজনমতো (খাঁটি সর্ষের তেল ব্যবহার করলে স্বাদ খোলতাই হবে)
নুন: একেবারে নিজের স্বাদ অনুযায়ী
প্রস্তুত প্রণালী
১. মাংসের ম্যারিনেশন
রান্নার আসল জাদু লুকিয়ে থাকে ম্যারিনেশনে। মাংসটা ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে একটি বড় পাত্রে নিন। এবার মাংসের সাথে টক দই, স্বাদ মতো নুন, অর্ধেক পরিমাণ আদা-রসুন বাটা এবং সমস্ত গুঁড়ো মশলা (হলুদ, লঙ্কা, জিরে ও ধনে গুঁড়ো) খুব ভাল করে মাখিয়ে নিন। মশলা মাখানো মাংসটি ঢাকা দিয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা রেখে দিন। এতে মাংস মশলা শুষে নিয়ে বেশ নরম হবে।
২. মশলা তৈরির পর্ব
কড়াইতে বেশ কিছুটা তেল গরম করুন। তেল থেকে হালকা ধোঁয়া উঠলে আঁচ কমিয়ে গোটা এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ আর তেজপাতা ফোড়ন দিন। মশলার সুন্দর সুবাস বেরোতে শুরু করলেই কুচিয়ে রাখা পেঁয়াজগুলো দিয়ে দিন। পেঁয়াজ একটু নরম হয়ে স্বচ্ছ দেখতে হলে, বাকি আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে থাকুন। পেঁয়াজের রং সোনালি হয়ে এলে কেটে রাখা টোম্যাটোর টুকরোগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন।
৩. মাংস কষানো
টমেটো গলে নরম হয়ে এলে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস এবং আলুর টুকরোগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন। এবার মাঝারি আঁচে সময় নিয়ে কষাতে থাকুন। যতক্ষণ না মাংসের কাঁচা গন্ধ গিয়ে রংটা গাঢ় হয়ে উঠছে এবং মাংস থেকে নিজস্ব জল ছাড়তে শুরু করছে, ততক্ষণ কষানো চালিয়ে যান।
৪. প্রেশার কুকারে রান্না
মাংস জল ছাড়তে শুরু করলে পুরো মিশ্রণটি সাবধানে একটি প্রেশার কুকারে ঢেলে নিন। আপনি ভাতের সঙ্গে কতটা ঝোল পছন্দ করেন, সেই আন্দাজ বুঝে গরম জল মেশান। কুকারের ঢাকা আটকে মাঝারি আঁচে ১২ থেকে ১৫টি হুইসল পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন (মাংসের কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে হুইসলের সংখ্যা কমবেশি হতে পারে)।
৫. শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
হুইসলের পর জোর করে স্টিম বের করবেন না। কুকারের নিজস্ব স্টিম পুরোপুরি বেরিয়ে গেলে তবেই ঢাকনা খুলুন। এরপর কুকারটি আবার গ্যাসে বসিয়ে একদম ঢিমে আঁচে ৭-১০ মিনিট ফুটতে দিন, যাতে ঝোলটা আপনার মনের মতো ঘনত্ব পায়।
সবশেষে ওপর থেকে এক চামচ ঘি আর সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। পরিবেশনের ঠিক আগে পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে রাখবেন, এতে গরম মশলা ও ঘিয়ের অপূর্ব গন্ধটা মাংসে দারুণভাবে মিশে যাবে।
গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন আপনার হাতের জাদুতে তৈরি কচি পাঁঠার ঝোল!