
ইলিশ ভাপা, চিংড়ি ভাপা, ভেটকি ভাপা- এই নামগুলো শুনেই জিভে জল আসে, তাই না? এমনকি এখন পনির ভাপাও বাজারে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু, তাই বলে করোলা ভাপা? শুনে কিছুটা অবাক হলেন তো? সবার আগে মনে হতে পারে, তেতোর সঙ্গে সর্ষের কম্বিনেশনটা কেমন হবে? এই পদ্ধতিতে একবার বানিয়েই দেখুন পদটি। পাতের ভাত মুহূর্তে সাবার হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে, পরের দিন পরিচিতদেরও নিজে থেকেই, বানিয়ে খাওয়াবেন এই গ্যারান্টি দিলাম।
উপকরণ
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, এই রান্নার প্রধান উপকরণ করোলা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সামান্য পরিমাণে হলুদ ও কালো সর্ষে, এক চায়ের চামচ পোস্ত দানা, হলুদ গুঁড়ো, লবণ, দুটি কাঁচা লঙ্কা এবং খাঁটি সর্ষের তেল। খুব সামান্য উপকরণেই, এই রান্নাটা বানিয়ে ফেলতে পারেন। সময়ও খুব কম লাগে।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
বর্ষার সময় জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সমস্যা ঘরে ঘরে লেগেই থাকে। ফলে, মুখের স্বাদও অনেক সময় চলে যায়। সেই সময়, এই পদটি ভাতের পাতে রাখতে পারেন। শরীরের জন্যও উপকার, আবার মুখের স্বাদ ফেরাতেও অত্যন্ত কার্যকারি।
প্রণালী
১. প্রথম ধাপ: করোলাগুলো প্রথমে ভালো করে ধুয়ে, রিং রিং করে কেটে নিতে হবে। তাতে কিছুটা পরিমাণে লবণ এবং হলুদ মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
২. দ্বিতীয় ধাপ (মশলা তৈরি): রান্নার জন্য মশলা তৈরি করে নিন এবার। প্রথমেই মিক্সিতে নিয়ে নিন হলুদ ও কালো সর্ষে। সঙ্গে দিন দুটো কাঁচা লঙ্কাও। আগে শুকনো সর্ষেগুলো পাউডার করে নিন। সর্ষে গুঁড়ো করে নেওয়ার পর, তাতে দিয়ে দিন সামান্য পরিমাণে জল। আবারও ভাল করে পেস্ট করে, সর্ষেটা ছেকে নিন।
৩. তৃতীয় ধাপ (পোস্ত পেস্ট): এবার সেই মিক্সিতেই পেস্ট করে নিন পোস্ত। পোস্তোর সঙ্গে সামান্য লবণ এবং চিনি মিশিয়ে জল দিয়ে, ফাইন পেস্ট করে নিন।
৪. চতুর্থ ধাপ (মিশ্রণ তৈরি): সর্ষে ছাঁকা জল এবং পোস্তোর পেস্ট একত্রে মিশিয়ে নিন। তাতে দিয়ে দিন সামান্য পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো আর কাঁচা সর্ষের তেল। কিছুক্ষণ এই মিশ্রণটি রেস্ট করতে দিন।
৫. পঞ্চম ধাপ (রান্না): এবার কড়াই ওভেনে বসিয়ে গরম করে নিন। তাতে দিয়ে দিন দুই চামচ সর্ষের তেল। এই রান্নায় তেল খুব বেশি দেবেন না, তাহলে শরীরের জন্য ক্ষতি। তেল গরম হতেই, তাতে দিয়ে দিন হলুদ ও লবণ মাখানো করোলা। লাল লাল করে করোলা ভাজবেন না, তাহলে রেসিপিটা বানাতে সমস্যা হবে। সামান্য একটু নাড়াচারা করেই, তাতে ঢেলে দিন সর্ষে-পোস্তোর পেস্ট। করোলা সেদ্ধ করতে সামান্য জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। আঁচটা মিডিয়ামে রাখবেন, না হলে সর্ষে পুড়ে যাবে।
৬. ষষ্ঠ ধাপ (শেষ পর্যায়): ১০ মিনিট পর ঢাকা সরিয়ে, দেখে নিন করোলা সেদ্ধ হয়েছে কি না। যদি করোলা সেদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে ঝোলটা টানিয়ে, মাখামাখা করে নিন রান্নাটা। নামিয়ে একটা সার্ভিং প্লেটে রেখে, তাতে ওপর থেকে দিয়ে দিন দু'চামচ গরম করে নেওয়া সর্ষের তেল। গার্নিশিংয়ের জন্য দিতে পারেন দুটি কাঁচা লঙ্কা।
ব্যাস, তৈরি আপনার সুস্বাদু করোলা ভাপা। বর্ষার সময়, ছুটির দিনে, রান্নাটি বাড়িতে বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিন।