
বাজারে অত্যন্ত সহজলভ্য লাউ। গরমের সবজি হলে আজকাল সারা বছরই পাওয়া যায় এই সবজিটি। লাউ দিয়ে তরকারি ও ডালের মতো নানা পদ রান্না করা যায়। তবে এর খোসাটিও কিন্তু ফেলনা নয়। সবজির খোসা সাধারণত আমরা ফেলেই দিই। কিন্তু খোসার উপকারিতা রয়েছে এমন সবজির মধ্যে লাউয়ের নাম সবার উপরে। যেমন লাউ খোসার স্বাদ, তেমনই গুণ। এবার লাউয়ের খোসা ভাজা খেয়ে দেখুন, থালা ভর্তি ভাত নিমেষে উঠে যাবে।
বাঙাল বাড়ির মা-ঠাকুমাদের সাবেকি পদ, লাউয়ের খোসা ভাজা। লাউয়ের খোসায় রয়েছে একাধিক ভিটামিন ও মিনারেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাউয়ের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৫ এবং ভিটামিন বি৬, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি রয়েছে। লাউয়ের খোসা খেলে গ্যাস, বদহজম, পাইলসের সমস্যা কমে যায়। এছাড়াও, এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্য অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। যদি গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আপনার ডায়েটে লাউয়ের খোসা রাখুন।
এবার লাউয়ের খোসা ভাজার স্বাদ বাড়াবে ডিমের ব্যবহার। অল্প উপকরণ আর কম সময়েই তৈরি করা যায় এই টেস্টি খাবারটি। লাউয়ের হালকা মিষ্টি স্বাদ ও ডিমের পুষ্টিগুণ মিলিয়ে তৈরি হয় ভাতের সঙ্গে খাওয়ার জন্য চমৎকার একটি পদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারবেন ডিম দিয়ে লাউ ভাজি।
উপকরণ: ডিম ১টি, ১টি কচি লাউয়ের খোসা, পেঁয়াজকুচি , কাঁচা লঙ্কা ৪টি, রসুনকুচি ৪ কোয়া, হলুদ খুব সামান্য পরিমাণ, নুন স্বাদমতো, কালোজিরে-১চা চামচ।
প্রণালী: প্রথমে লাউয়ের থেকে লাউয়ের খোসা গুলো ছাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এবারে লাউয়ের খোসা গুলো ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তেলে কালো জিরে লঙ্কা ফোড়ণ দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন যখন হালকা নরম করে ভাজা হয়ে আসবে তখন দিয়ে দিতে হবে সেদ্ধ করে রাখা লাউয়ের খোসা। সামান্য হলুদ ও নুন দিয়ে একটু নেড়ে নিয়ে ঢেকে দিন। লাউয়ের খোসা ভালোভাবে সেদ্ধ হলে একটা ডিম ভেঙে দিন। ভালো করে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে ফেলুন। চাইলে ধনেপাতাকুচিও দেওয়া যেতে পারে। এবার ডিম দিয়ে লাউ ভাজি গরম গরম পরিবেশন করুন।