
রোজকার রান্নায় আলুর তরকারি, ঝোল কিংবা ডাল তো অনেকেই খান। কিন্তু আলুর সঙ্গে যদি সয়াবিন মিশিয়ে একটু অন্যরকম পদ তৈরি করা যায়, তা হলে দুপুরের বা রাতের খাবারের স্বাদই বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে আলু-সয়াবিনের এই ঝোল খেতে দারুণ লাগে। রান্নার উপকরণও খুব সাধারণ। বাড়িতে থাকা আলু, সয়াবিন, পেঁয়াজ, টমেটো আর কয়েকটি মশলা দিয়েই সহজে বানিয়ে নিতে পারবেন এই পদ। যাঁরা নিরামিষ খাবারে একটু নতুন স্বাদ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই রেসিপি হতে পারে দারুণ পছন্দের।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই রান্নার জন্য লাগবে মাঝারি আকারের ২টি আলু, এক কাপ সয়াবিন, একটি পেঁয়াজ কুচি, একটি টমেটো কুচি, এক চামচ আদা বাটা, আধ চামচ জিরে, আধ চামচ হলুদ গুঁড়ো, এক চামচ জিরে গুঁড়ো, আধ চামচ ধনে গুঁড়ো, স্বাদমতো লঙ্কার গুঁড়ো, নুন, সামান্য চিনি, গোটা জিরে, তেজপাতা এবং সর্ষের তেল। শেষে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাখতে পারেন সামান্য গরমমশলা ও ধনেপাতা কুচি।
কীভাবে বানাবেন আলু-সয়াবিন?
প্রথমে একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে সয়াবিন দিয়ে দিন। মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিলেই সয়াবিন নরম হয়ে যাবে। এরপর জল ঝরিয়ে সয়াবিনগুলি ঠান্ডা জলে ধুয়ে ভালো করে চেপে জল বের করে নিন। চাইলে সয়াবিনগুলি মাঝখান থেকে কেটে নিতে পারেন। এতে রান্নার মশলা ভিতর পর্যন্ত ঢুকবে।
এবার আলু খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের টুকরো করে কেটে নিন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে আলুগুলিতে সামান্য হলুদ ও নুন মাখিয়ে হালকা লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে সয়াবিনগুলিও সামান্য ভেজে নিন। এতে সয়াবিনের কাঁচা গন্ধ চলে যাবে।
এরপর কড়াইয়ে গোটা জিরে ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এবার আদা বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। তার পর টমেটো কুচি, হলুদ, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, লঙ্কার গুঁড়ো এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন কষানো হয়ে এসেছে।
এবার ভেজে রাখা আলু ও সয়াবিন কড়াইয়ে দিয়ে মশলার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিনিট দুয়েক নাড়াচাড়া করে প্রয়োজনমতো গরম জল দিন। ঝোল কতটা রাখতে চান, সেই অনুযায়ী জলের পরিমাণ ঠিক করুন। ঢাকা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট রান্না হতে দিন। আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে সামান্য চিনি ও গরমমশলা ছড়িয়ে দিন। আরও মিনিট দুয়েক ফুটিয়ে উপর থেকে ধনেপাতা কুচি দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু আলু-সয়াবিনের তরকারি। গরম ভাত, রুটি কিংবা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। সাধারণ উপকরণে তৈরি এই রান্না স্বাদে যেমন ভালো, তেমনই রোজকার মেনুতেও আনবে নতুনত্ব।