
Jagannath Bhog Dalma Recipe: বাঙালির পাত মানেই তো মুসুরির পাতলা ডাল কিংবা সোনামুগের ভাজা ডাল। কিন্তু এই চেনা স্বাদবদল করতে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার হেঁশেলে একটু উঁকি দিলেই মিলবে এক অমৃতের সন্ধান। সেখানে ডাল মানেই ‘ডালমা’ (Dalma)। এটি শুধু ডাল নয়, আসলে ডাল আর বাহারি সবজির এক দুর্দান্ত মেলবন্ধন। যাকে পুষ্টিবিদরা এককথায় বলেন ‘ওয়ান পট নিউট্রিশন বম্ব’। পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের ‘ছাপ্পান্ন ভোগ’-এর অন্যতম প্রধান পদ এই ডালমা। পেঁয়াজ-রসুনের ছোঁয়া ছাড়া সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক উপায়ে তৈরি এই পদ যেমন সুস্বাদু, তেমনই শরীরের জন্য উপকারী। নিরামিষের দিন হোক বা ব্রত-পার্বণ কিংবা পেটের গোলমাল। ডালমার জাদুতে মজে যেতে পারে আপামোর বাঙালি।
ডালে প্রোটিন, হরেক সবজিতে ভিটামিন ও মিনারেল, খাঁটি ঘিয়ে গুড ফ্যাট আর আদা-জিরে-হিঙে হজমি গুণ। কম ক্যালরি ও হাই ফাইবার সমৃদ্ধ এক বাটি ডালমায় মেলে মাত্র ১২০ ক্যালরি, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার স্পাইক রোধ করতে এবং বাচ্চার টিফিনে কমপ্লিট লাঞ্চ হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার। এটি জিরো অ্যাসিডিটি নিশ্চিত করে, যা গ্যাসের রোগীদের জন্য আশীর্বাদ।
কী কী লাগবে?
ডাল: ১ কাপ অরহর (তুর) ডাল (অথেন্টিক স্বাদের জন্য বেস্ট, তবে মুগ ডালও চলে)।
সবজি: আলু, কুমড়ো (১০০ গ্রাম), কাঁচকলা, পেঁপে (১০০ গ্রাম), বেগুন, বিনস (৫০ গ্রাম), গাজর ও থোড়/ডাঁটা মিলিয়ে মোট ২ কাপ বড় টুকরো করে কাটা ৭-৮ রকমের সবজি।
ফোড়ন: ২ চামচ ঘি, ২টো শুকনো লঙ্কা, ১টা তেজপাতা, ১ চামচ পাঁচ ফোড়ন এবং ১ চিমটি হিং।
বাটা মশলা: আদা (১ ইঞ্চি), জিরে (১ চামচ) ও শুকনো লঙ্কা (১টা) একসঙ্গে বাটা।
অন্যান্য: নুন ও হলুদ (১/২ চামচ), চিনি (১/২ চামচ), ধনেপাতা কুচি, ভাজা জিরে গুঁড়ো (১ চামচ) এবং ২ চামচ নারকেল কোরা (ঐচ্ছিক)।
রান্নার পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: প্রথমে ডাল ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রেসার কুকারে ভেজানো ডাল, বড় টুকরো করে কাটা সবজি, নুন, হলুদ ও ৩ কাপ জল দিয়ে ২টি সিটি দিন। খেয়াল রাখবেন সবজি যেন গলে না যায়। কুকার না থাকলে কড়াইতে ২০ মিনিট ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ করতে পারেন।
দ্বিতীয় ধাপ: আসল টুইস্ট এখানেই। কড়াইতে ১ চামচ ঘি গরম করে আদা-জিরে-লঙ্কা বাটা দিয়ে কম আঁচে ১ মিনিট কষান। কাঁচা গন্ধ দূর হলে সেদ্ধ ডাল-সবজি ঢেলে দিন। সামান্য চিনি দিয়ে ৫ মিনিট ফোটান। জগন্নাথ মন্দিরের মতো ডালমার ঘনত্ব একটু ঘন রাখুন।
তৃতীয় ধাপ: ছোট কড়াইতে বাকি ১ চামচ ঘি গরম করে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, পাঁচ ফোড়ন ও হিং দিন। ফোড়ন চড়বড় করে উঠলে ডালের ওপর ঢেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ২ মিনিট ঢাকা দিয়ে দমে রাখুন।
চতুর্থ ধাপ: নামানোর আগে ওপর থেকে ভাজা জিরে গুঁড়ো, ধনেপাতা কুচি আর নারকেল কোরা ছড়িয়ে দিলেই তৈরি ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী ডালমা।
ডালমার ৫টি ‘সিক্রেট টিপস’
১. সবজির সাইজ: সবজি সবসময় বড় ২ ইঞ্চি টুকরো করুন, ছোট করলে গলে ঘেঁটে যাবে।
২. কাঁচকলা আবশ্যিক: এটি ডালমাকে ক্রিমি টেক্সচার দেয় ও গ্যাস কমায়। না থাকলে পেঁপে ডবল দিন।
৩. চিনির জাদু: এক চিমটি চিনি সবজির টক ভাব কেটে স্বাদ ব্যালেন্স করে, যা ওড়িশার রান্নার বৈশিষ্ট্য।
৪. ঘি-এর শেষ ম্যাজিক: ঘিয়ে তৈরি ফাইনাল ফোড়ন রান্নার শেষে দিলে সুগন্ধ চমৎকার বজায় থাকে।
৫. নারকেল কোরা: ওপর থেকে নারকেল কোরা ছড়ালে অথেন্টিক ডালমার স্বাদ ১০ গুণ বেড়ে যায়।
কী দিয়ে খাবেন ও ভ্যারিয়েশন
গরম ভাতে একটু ঘি আর লেবু চিপে ডালমা খাওয়া বেস্ট কম্বো। এ ছাড়া রুটি-পরোটার সঙ্গে এটি মাখিয়ে খেলে পাঞ্জাবি ডাল-ফ্রাইও ফেল মারবে। ওড়িশার মানুষ বিকেলে মুড়ি দিয়েও ডালমা খান। আবার ব্রতের দিনে লুচির সঙ্গেও এটি দারুণ জমে।
পছন্দ অনুযায়ী এর ৩টি ভ্যারিয়েশনও ট্রাই করতে পারেন। টমেটো বা আমচুর দিয়ে টক স্বাদের ‘আম্বিল ডালমা’, সবজি বেশি ও ডাল কম দিয়ে ‘ঘাড়া ডালমা’, অথবা অরহর ডালের বদলে সোনামুগ দিয়ে তৈরি হালকা ‘মুগ ডালমা’। নিরামিষ মানেই পনির বা ধোঁকার ডালনা নয়, পকেট-ফ্রেন্ডলি এই এক পদেই এবার বাজিমাত করুন।