
মায়াপুর... নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল মন্দির, খোল-করতালের ধ্বনি, আর দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্তের ভিড়। আর সেই সঙ্গে মনে পড়ে ইস্কনের সেই অমৃততুল্য মহাপ্রসাদ! যাঁরা মায়াপুরে গিয়েছেন, তাঁরা জানেন সেখানকার অন্নভোগের স্বাদ কতখানি অতুলনীয়। বিশেষ করে মহাপ্রসাদের থালিতে থাকা সেই নিরামিষ পনিরের তরকারি। মুখে দিলেই যেন গলে যায়, আর তার স্বাদ জিভে লেগে থাকে বহু দিন।
পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া এত অপূর্ব স্বাদের পনির কী ভাবে তৈরি হয়, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। আসলে ইস্কনের রান্নার মূল কথাই হল সাত্ত্বিকতা আর ভক্তি। তাই পেঁয়াজ, রসুনের প্রবেশ সেখানে কড়া ভাবে নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও রান্নায় যে এমন রাজকীয় স্বাদ আসে, তার নেপথ্যে রয়েছে মশলা, কাজু, চারমগজ এবং খাঁটি ঘিয়ের সঠিক ব্যবহার ও অনুপাত।
পুজোপার্বণ হোক বা নিরামিষ খাওয়ার দিন— আপনি চাইলে নিজের বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন মায়াপুরের স্টাইলে এই পনির। রইল সেই গোপন রেসিপি।
কী কী উপকরণ লাগবে?
পনির: ৪০০ গ্রাম (চৌকো করে কাটা)
টম্যাটো: ২টি (বড় আকারের)
আদা: ১ ইঞ্চি
কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪টি
কাজু বাদাম ও চারমগজ: ২ টেবিল চামচ (একসঙ্গে বাটা)
গোটা জিরে: ১ চা চামচ
তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা: ১টি করে
গোটা গরম মশলা: এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি (কয়েকটি)
গুঁড়ো মশলা: জিরে গুঁড়ো ও ধনে গুঁড়ো (১ চা চামচ করে)
হলুদ গুঁড়ো: আধ চা চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো: ১ চা চামচ (সুন্দর রঙের জন্য)
কসৌরি মেথি: ১ চা চামচ
ঘি: ২ টেবিল চামচ
সাদা তেল: পরিমাণমতো
নুন ও চিনি: স্বাদমতো
গরম মশলা গুঁড়ো: আধ চা চামচ
কী ভাবে বানাবেন?
প্রথম ধাপ:
প্রথমে একটি পাত্রে সামান্য গরম জল নিয়ে তাতে একটু নুন ফেলে রাখুন। কড়াইতে সামান্য সাদা তেল গরম করে পনিরের টুকরোগুলো হালকা সোনালি করে ভেজে নিন। ভাজা পনিরগুলো সরাসরি ওই নুন-জলে ভিজিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এতে পনিরের ভেতরে নুন ঢুকবে এবং তা একদম নরম তুলতুলে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ:
এ বার গ্রেভি তৈরির পালা। মিক্সিতে টম্যাটো, কাঁচা লঙ্কা এবং আদা একসঙ্গে দিয়ে একটি মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনও দানা না থাকে।
তৃতীয় ধাপ:
কড়াইতে আরও একটু সাদা তেল ও এক চামচ ঘি গরম করুন। এর পর তাতে গোটা জিরে, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা এবং গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। মশলা ভাজার সুগন্ধ বেরোতে শুরু করলে কড়াইতে টম্যাটো-আদার পেস্ট ঢেলে দিন।
চতুর্থ ধাপ:
মাঝারি আঁচে মশলা কষাতে থাকুন। কাঁচা গন্ধ চলে গেলে জিরে, ধনে, হলুদ এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে দিন। মশলা কষতে কষতে যখন দেখবেন ধার থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে কাজু ও চারমগজ বাটা দিয়ে দিন।
পঞ্চম ধাপ:
পুরো মিশ্রণটি খুব ভাল করে নাড়াচাড়া করুন। এই সময়েই স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি দেবেন। নিরামিষ রান্নায় একটু মিষ্টি দিলে স্বাদের ভারসাম্য বজায় থাকে।
ষষ্ঠ ধাপ:
মশলা খুব ভাল করে কষানো হয়ে গেলে, জল থেকে তুলে রাখা পনিরের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। মশলার সঙ্গে পনির মিশিয়ে নিয়ে পরিমাণমতো গরম জল ঢেলে দিন। ইস্কনের মহাপ্রসাদের গ্রেভি খুব বেশি পাতলা হয় না, তাই জলের পরিমাণ বুঝেশুনে দেবেন।
শেষ ধাপ:
ঝোল ফুটে উঠলে ঢাকা দিয়ে ৫-৭ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না হতে দিন। গ্রেভি ঘন হয়ে এলে নামানোর আগে উপর থেকে বাকি ঘি, গরম মশলা গুঁড়ো এবং হাতের তালুতে ঘষে নেওয়া কসৌরি মেথি ছড়িয়ে দিন।
ব্যস, তৈরি আপনার ইস্কন স্টাইলের সাত্ত্বিক পনির! গরম গরম লুচি, পোলাও বা জিরা রাইসের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই অমৃততুল্য পদ। ছুটির দিনের দুপুরে এই খাবার পাতে পড়লে, পরিবারের সকলের মুখে যে তৃপ্তির হাসি ফুটবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!