
রবিবারের দুপুরে ভাতের পাতে যদি গরম ধোঁয়া ওঠা মুসুর ডাল আর সঙ্গে মুচমুচে পোস্ত বড়া থাকে, তবে আর কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। পূর্ববঙ্গ হোক বা পশ্চিমবঙ্গ—বাঙালির রান্নাঘরে পোস্ত সর্বজনবিদিত। তবে ঘটি বাড়ির খাঁটি পোস্ত বড়ার স্বাদ যেন একটু আলাদা। বাইরেটা একদম মুচমুচে, আর কামড় দিলেই ভেতরে নরম একটা মাখনের মতো ভাব।
উপকরণ (যা যা লাগবে):
পোস্ত: ৫০ গ্রাম
কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪টি (ঝাল রুচি অনুযায়ী)
পেঁয়াজ কুচি: ১টি মাঝারি (ঐচ্ছিক—যাঁরা সম্পূর্ণ নিরামিষ চান, তাঁরা বাদ দিতে পারেন)
সর্ষের তেল: ভাজার জন্য পরিমাণ মতো
নুন: স্বাদ মতো
সামান্য চিনি: স্বাদের ভারসাম্য রাখার জন্য (ঘটি বাড়ির ছোঁয়া)
কাঁচা সর্ষের তেল: ১ চা চামচ (বাটার সময় দেওয়ার জন্য)
তৈরি প্রণালী:
১. পোস্ত বাটার কায়দা:
বড়া বানানোর আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে পোস্ত বাটার মধ্যে। পোস্ত অন্তত ঘণ্টাখানেক জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল খুব ভাল করে ঝরিয়ে নিয়ে শিলনোড়ায় বাটতে হবে। মিক্সিতে বাটলে অনেক সময় অতিরিক্ত জল পড়ে যায় বা মিহি হতে চায় না। বাটার সময় জল প্রায় দেবেনই না। ১টি কাঁচা লঙ্কা ও সামান্য নুন দিয়ে বেশ শুকনো ও একটু খোঁচা খোঁচা (দানাদার) করে বেটে নিন।
২. মিশ্রণ তৈরি:
বেটে রাখা পোস্তর মধ্যে পেঁয়াজ কুচি (যদি দেন), মিহি করে কুচানো কাঁচা লঙ্কা, স্বাদমতো নুন, সামান্য চিনি এবং ১ চা চামচ কাঁচা সর্ষের তেল দিয়ে হালকা হাতে মেখে নিন। পোস্ত খুব বেশি চটকালে তা থেকে তেল ছেড়ে দিতে পারে, তাই আলতো হাতে মাখাই শ্রেয়।
৩. আকার দেওয়া:
হাতের তালুতে সামান্য জল বা সর্ষের তেল বুলিয়ে নিন। পোস্তর মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট লেচি নিয়ে চ্যাপ্টা গোল বা বড়ার আকার দিন। খেয়াল রাখবেন বড়া যেন খুব বেশি পুরু না হয়, আবার একদম পাতলাও না হয়।
৪. ভাজার কৌশল:
কড়ায় বা ফ্ল্যাট প্যানে কিছুটা সর্ষের তেল গরম করুন। পোস্ত বড়া ডোবা তেলে ভাজতে নেই, চাটু বা প্যানে অল্প থেকে মাঝারি তেলে ভাজাই নিয়ম। তেল ভালোভাবে গরম হলে আঁচ মাঝারি করে বড়াগুলো একে একে ছেড়ে দিন।
৫. মুচমুচে ভাব আনা:
এক পিঠ হালকা সোনালি হয়ে এলে উল্টে দিন। তাড়াহুড়ো করবেন না। কম আঁচে দু’পিঠ লালচে-সোনালি ও মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। বড়ার ওপরের আস্তরণ মচমচে হলে তেল ঝরিয়ে তুলে নিন।
রান্নাঘরের ছোট টিপস:
বড়া ভাজার সময় যদি মনে হয় পোস্ত ছেড়ে যাচ্ছে বা নরম লাগছে, তবে ছোলার ছাতু বা চালের গুঁড়ো মেশানোর ভুল করবেন না। এতে পোস্তর খাঁটি স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। বদলে পোস্ত বাটার সময় জল যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন।
গরম ভাত, এক টুকরো লেবু আর একটু খাঁটি সর্ষের তেলের সঙ্গে এই পোস্ত বড়া পরিবেশন করুন। ডালের পাত জমে যাবে প্রথম কামড়েই!