
ভাইফোঁটায় মিষ্টিমুখ হবে না, তা কি কখনও হয়। বাইরের মিষ্টিতে এখন ভেজাল ধরা পড়ছে। তাছাড়া অনেক দিন ধরে ফ্রিজে রেখেও দিচ্ছে দোকানি। তাই বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন নরম, তুলতুলে রসগোল্লা। নিজের হাতে বানানো রসগোল্লা খাওয়ার আনন্দই আলাদা। অনেকেই মনে করেন, বাড়িতে রসগোল্লা তৈরি করা বেশ ঝক্কির কাজ। সময়ও লাগে অনেকটা। কিন্তু প্রেসার কুকারে মাত্র দুটি সিটি দিয়েই রসগোল্লা বানিয়ে ফেলতে পারেন। রসগোল্লা তৈরির এমনই একটি সহজ রেসিপি শিখে নিন।
মাঝেমধ্যে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে বা উৎসবের সময়ে বাজারের ভেজাল মিষ্টি এড়িয়ে চলতে চাইলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন তুলতুলে রসগোল্লা। উপকরণও লাগে খুব সামান্য। কম খরচ। রসগোল্লার রেসিপি দেখে নিন। বাড়িতে রসগোল্লা বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
গরুর দুধ: ৫ প্যাকেট
লেবুর রস: ১ চা চামচ
সুজি: ১ চা চামচ
চিনি : ২ কাপ
জল: ৬ কাপ
গোলাপ জল: ইচ্ছেমতো
কীভাবে বানাবেন রসগোল্লা
রসগোল্লা তৈরির জন্য গরুর দুধ ব্যবহার করাই ভাল। এই দুধে সরের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফুল ক্রিম দুধ ব্যবহার করলে আগে তার সর তুলে আলাদা করে রাখুন।
প্রথমে একটি পাত্রে দুধ গরম করুন। দুধ ফুটে উঠলে গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিন। দুধ সামান্য ঠান্ডা হয়ে এলে তাতে ছানা কাটানোর উপকরণ মেশাতে হবে। সামান্য জলে লেবুর রস বা ভিনিগার মিশিয়ে নিন। একবারে পুরোটা না দিয়ে অল্প অল্প করে দুধে মেশান। একটানা নাড়তে থাকুন। দুধ কেটে ছানা ও জল আলাদা হয়ে গেলেই বুঝবেন, ছানা তৈরি হয়ে গিয়েছে।
এবার ছানা পরিষ্কার জলে ভাল করে ধুয়ে নিন। লেবুর রস বা ভিনিগারের টক ভাব দূর হয়ে যাবে। তার পর একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ে ছানা বেঁধে ১৫-২০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখুন। বেরিয়ে যাবে অতিরিক্ত জল। তবে ছানা যেন একেবারে শুকিয়ে না যায়। সামান্য আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। ছানা খুব বেশি শুকনো বা ভেজা হলে রসগোল্লা গোল হবে না।
এবার ছানার সঙ্গে এক চা চামচ সুজি মিশিয়ে ভাল করে মেখে নিন। তবে বেশি সুজি দেবেন না। রসগোল্লা শক্ত হয়ে যেতে পারে। এরপর মিক্সারে দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন। সেই মণ্ড থেকে ছোট ছোট গোল বল তৈরি করে রাখুন।
এবার প্রেসার কুকারে চিনি ও জল দিয়ে বসিয়ে দিন। চিনির পরিমাণের তিন গুণ জল ব্যবহার করতে হবে। ২ কাপ চিনির জন্য ৬ কাপ জল। ভাল করে ফুটিয়ে চিনির রস তৈরি করে নিন। চিনির রস ফুটতে শুরু করলে তৈরি করে রাখা ছানার বলগুলি দিয়ে দিন। এবার প্রেসার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে দুটি সিটি পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
গ্যাসের আঁচ একেবারে কমিয়ে আরও ৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর কুকারের প্রেসার সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঢাকনা খুলুন। তৈরি নরম, তুলতুলে ও রসে ভরা রসগোল্লা।