
সামনে ভাইফোঁটা। ওই দিন বাড়িতে বানিয়ে নিন আলুর দম বিরিয়ানি। আর রেসিপিও খুব সহজ। চিকেন বা মাটন বিরিয়ানির মতোই দারুণ খেতে হবে। আর আলুপ্রেমী হলে তো কথাই নেই। একবার চেখে দেখতে পারেন আলুর দম বিরিয়ানি। স্বাদে গন্ধে এই বিরিয়ানি তুলনাহীন। মশলাদার আলুর স্বাদ আর বাসমতী চালের সুগন্ধ মিলে তৈরি হয় এক অসাধারণ পদ। সবচেয়ে ভাল বিষয় হল, এই বিরিয়ানি বাড়িতেই খুব সহজে বানিয়ে নেওয়া যায়। তবে চাল ঝরঝরে রাখা এবং আলুর মধ্যে মশলার স্বাদ ভাল করে মেশানোর ব্যাপারটা নজর দিন।
আলুর দম বিরিয়ানি বানাতে কী কী লাগবে?
বাসমতী চাল: ২ কাপ
ছোট আলু: ৮-১০টি
পেঁয়াজ: ২টি বড়
টমেটো: ১টি
দই: আধ কাপ
আদা রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
কাঁচালঙ্কা: ২টি
বিরিয়ানি মশলা: ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো: আধ চা চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো: ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো: ১ চা চামচ
গরম মশলা: আধ চা চামচ
জিরে: আধ চা চামচ
তেজপাতা: ২টি
দারচিনি: ১ টুকরো
এলাচ: ২টি
লবঙ্গ: ৩-৪টি
ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা: পরিমাণমতো
তেল বা ঘি: প্রয়োজনমতো
নুন: স্বাদমতো
জাফরান ভেজানো দুধ: ২ টেবিল চামচ
কীভাবে বানাবেন আলুর দম বিরিয়ানি?
প্রথমে বাসমতী চাল ভাল করে ধুয়ে নিন। ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। চাল সেদ্ধ হবে তাড়াতাড়ি। ভেঙেও যাবে না।
এবার একটি বড় পাত্রে জল গরম করুন। তাতে তেজপাতা, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ এবং সামান্য নুন দিয়ে দিন। জল ফুটতে শুরু করলে ভিজিয়ে রাখা চাল দিয়ে দিন। ৭০ শতাংশ সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ফোটান। জল ঝরিয়ে চাল আলাদা করে রাখুন। চাল যেন পুরোপুরি সেদ্ধ না হয়ে যায়।
এবার ছোট আলুগুলি ভাল করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। আলু বড় হলে দু টুকরো করে নিতে পারেন। কাঁটাচামচ দিয়ে আলুর গায়ে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে দিন। মশলার স্বাদ আলুর ভিতর পর্যন্ত পৌঁছবে। কড়াইয়ে তেল গরম করে আলুগুলি হালকা সোনালি করে ভেজে নিন। তারপর একটি পাত্রে তুলে রাখুন। খুব বেশি ভাজার প্রয়োজন নেই। পরে মশলার সঙ্গে আরও রান্না হবে আলু।
এবার কড়াইয়ে সামান্য তেল বা ঘি গরম করুন। জিরে, তেজপাতা, দারচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন। কয়েক সেকেন্ড পর মিহি করে কুচিয়ে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর আদা রসুন বাটা এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এবার কুচিয়ে রাখা টমেটো দিন। টমেটো নরম হয়ে এলে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, বিরিয়ানি মশলা এবং স্বাদমতো নুন মেশান। এরপর ফেটিয়ে রাখা দই দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন, কষানো হয়ে গিয়েছে।
ভেজে রাখা আলুগুলি মশলার মধ্যে দিয়ে ভাল করে মেশান। আলুর গায়ে যেন মশলা লেগে থাকে। সামান্য জল দিয়ে কড়াইয়ের ঢাকনা বন্ধ করে কম আঁচে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন। আলু নরম হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। খেয়াল রাখবেন, গ্রেভি যেন খুব পাতলা না হয়।
এবার একটি ডেচকি নিন। প্রথমে তাতে আলু ও মশলা ছড়িয়ে দিন। তার উপরে অর্ধেক সেদ্ধ করে রাখা চাল বিছিয়ে দিন। এবার সামান্য ধনেপাতা, পুদিনাপাতা এবং গরম মশলা ছড়িয়ে দিন। ইচ্ছে হলে উপর থেকে জাফরান ভেজানো দুধ এবং সামান্য ঘিও দিতে পারেন। এরপর বাকি আলু ও চাল দিয়ে আরও একটি স্তর তৈরি করুন। উপর থেকে সামান্য ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা ভাল করে বন্ধ করে দিন। ঢাকনা দিয়ে ভাপ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে আটার লেচি দিয়ে পাত্রের মুখ বন্ধ করে দিতে পারেন।
এবার কম আঁচে ১৫-২০ মিনিট বিরিয়ানি দমে বসিয়ে রাখুন। চাইলে একটি তাওয়া বসিয়ে তার উপর বিরিয়ানির ডেচকি রাখতে পারেন। এতে নীচের অংশ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। চালও সেদ্ধ হবে।
গ্যাস বন্ধ করার পর আরও ৫-১০ মিনিট ঢাকনা বন্ধ করে রেখে দিন। তৈরি মশলাদার ও সুগন্ধি আলুর দম বিরিয়ানি। তার পর চামচ দিয়ে আলতো হাতে বিরিয়ানি থালায় তুলে নিন। চালের স্তর যেন ভেঙে না যায়।