
দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, নতুন জামাকাপড়, আড্ডা আর পেটপুজো। আর বাঙালির পুজোর খাবারের তালিকায় লুচি থাকলে তার সঙ্গে আলুর দম না হলে যেন কী একটা কম পড়ে যায়! গরম গরম ফুলকো লুচির সঙ্গে ঘন, ঝাল-মশলাদার আলুর দম, এই কম্বিনেশনের স্বাদই আলাদা। বাড়িতে অতিথি এলে বা পুজোর ছুটিতে বিশেষ কিছু রান্না করতে চাইলে সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই স্পেশাল আলুর দম।
তবে রেস্তরাঁ বা বনেদি বাড়ির মতো আলুর দম বানানোর কয়েকটি ছোট কৌশল রয়েছে। সেই সিক্রেট মেনে রান্না করলে সাধারণ আলুর দমও হয়ে উঠবে একেবারে অন্যরকম।
কী কী লাগবে
ছোট মাপের আলু ৮-১০টি, টমেটো ২টি, আদা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা ২-৩টি, টক দই ২ টেবিল চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো আধা চা চামচ, হলুদ সামান্য, গরম মশলা আধা চা চামচ, নুন স্বাদমতো, চিনি আধা চা চামচ এবং সর্ষের তেল পরিমাণমতো নিন। চাইলে সামান্য কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিতে পারেন রঙের জন্য।
প্রথমেই আলুতে আনুন স্বাদ
আলু সেদ্ধ করে পুরোপুরি নরম করবেন না। ৮০ শতাংশ সেদ্ধ হলেই নামিয়ে নিন। খোসা ছাড়িয়ে আলুগুলিতে হালকা করে ছুরি দিয়ে দাগ কেটে দিন। এরপর নুন ও হলুদ মাখিয়ে সর্ষের তেলে আলুগুলি ভালো করে ভেজে নিন। এই ধাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে মশলা পরে আলুর ভিতরে ঢুকবে এবং আলুর দম আরও সুস্বাদু হবে।
এবার তৈরি করুন মশলা
কড়াইয়ে সামান্য সর্ষের তেল দিয়ে প্রথমে ফোড়ন দিন জিরে, শুকনো লঙ্কা এবং একটি তেজপাতা। এরপর আদা বাটা দিয়ে ভালো করে কষতে থাকুন। টমেটো কুচি দিয়ে নুন, হলুদ, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও লঙ্কা গুঁড়ো দিন।
এবার আসছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। আঁচ কমিয়ে মশলাটি ভালো করে কষতে হবে। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন কষানো ঠিক হয়েছে। এরপর টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে ধীরে ধীরে কড়াইয়ে দিন। দই দেওয়ার সময় আঁচ কম রাখবেন, নাহলে দই কেটে যেতে পারে।
এবার আলু দিন
মশলা ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে ভাজা আলুগুলি কড়াইয়ে দিয়ে মশলার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর প্রয়োজনমতো গরম জল দিয়ে ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন।
আলুর দম খুব বেশি পাতলা করবেন না। লুচির সঙ্গে খাওয়ার জন্য এর ঝোল ঘন এবং মশলাদার হলে স্বাদ বেশি ভালো লাগে। শেষে সামান্য চিনি, গরম মশলা এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে আরও ২ মিনিট রান্না করে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
সবশেষে এক চামচ সর্ষের তেল ছড়িয়ে কয়েক মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। এটাই আরেকটি ছোট সিক্রেট। এতে সর্ষের তেলের গন্ধ এবং মশলার স্বাদ আলুর দমে ভালোভাবে মিশে যাবে।
এরপর গরম গরম লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন। পুজোর সকালে এই আলুর দম আর ফুলকো লুচির জুটি জমে যাবে একেবারে। সঙ্গে সামান্য ছোলার ডাল বা মিষ্টি চাটনি থাকলে পুজোর ভুরিভোজ আরও জমে উঠবে।