
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবছর গরমের তীব্র দাবদাহে নাজেহাল হবে বঙ্গবাসী। বাংলা নববর্ষের আগেই তাপমাত্রার পারদ আরও বাড়বে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। যার কারণে মানুষ জলশূন্যতার সমস্যায় পড়ে। এই ঋতুতে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায় এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি।
প্রচণ্ড গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে, সবসময় ঠাণ্ডা ও স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করা উচিত। তবে, শরীরকে শীতল করার জন্য অধিকাংশ মানুষই লেবুর শরবতের ওপর নির্ভর করেন। শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তরমুজকেও অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়।
তরমুজের শরবতের উপকারিতা
ভিটামিন এ, সি এবং পটাশিয়ামে ভরপুর তরমুজের শরবত কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। ভেজালযুক্ত বাণিজ্যিক জ্যুসের পরিবর্তে, ঘরে তৈরি এই বিশুদ্ধ ও শীতল শরবত সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে আপনাকে স্বস্তি দেবে। এছাড়া, এটি ঘরে তৈরি করাও অত্যন্ত সহজ। জেনে নিন রেসিপি।
শরবত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ
তরমুজ: ৩-৪ কাপ (ছোট টুকরো করে কাটা এবং দানা ছাড়ানো)
লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ
পুদিনা পাতা: ৮-১০টি (তাজা পাতা)
বিট নুন: ১/২ চা চামচ
চিনি/মধু: ১ চা চামচ (যদি তরমুজটি কম মিষ্টি হয়)
চাট মশলা: এক চিমটি
বরফের টুকরো
প্রণালী
তরমুজগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন এবং যতটা সম্ভব দানা সরিয়ে ফেলুন। পরিবেশনের জন্য তরমুজের কয়েকটি ছোট টুকরো আলাদা করে সরিয়ে রাখুন।
একটি ব্লেন্ডার বা মিক্সার জারে তরমুজের টুকরো, তাজা পুদিনা পাতা, লেবুর রস এবং বিট লবণ নিন। ভালভাবে ব্লেন্ড করে শরবত তৈরি করে নিন।
আপনি যদি একদম স্বচ্ছ শরবত পছন্দ করেন, তবে এটি ছেঁকে নিন। নয়তো, তরমুজের শাঁস বা পাল্পসহ পান করলেও এটি বেশ সুস্বাদু হয়।
তৈরি করা শরবতে এক চিমটি চাট মশলা মিশিয়ে দিন; এতে শরবতের স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।
পরিবেশনের গ্লাসে বরফের টুকরো এবং আগে থেকে সরিয়ে রাখা তরমুজের ছোট টুকরোগুলো দিন।
এরপর এর ওপর দিয়ে ঠান্ডা শরবতটি ঢেলে দিন, একটি পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে নিন এবং সঙ্গে সঙ্গেই পরিবেশন করুন।