
বর্তমান সময়ে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে ওজন বৃদ্ধির সমস্যাটি বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলার মাধ্যমে এই সমস্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। কিছু ভেষজ চা আছে, যা শরীরকে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে, হজমশক্তি বাড়াতে এবং ওজন কমাতেও সহায়তা করতে পারে। খুব সহজেই এবং অল্প সময়ের মধ্যে বাড়িতেই এই ধরণের চা তৈরি করে নিতে পারেন। জানুন, আপনার দিনটিকে সতেজ ও কর্মচঞ্চল করে তুলতে এবং ওজন কমাতে কোন কোন ভেষজ চা সাহায্য করবে।
পুদিনা চা
এই চা পাকস্থলীকে শীতল করতে এবং পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমকেও ত্বরান্বিত করে এবং ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি তৈরি করতে, এক কাপ গরম জলে একটি পুদিনা টি ব্যাগ অথবা ৬টি তাজা পুদিনা পাতা এবং সামান্য আদা মিশিয়ে নিন।
হলুদ ও গোলমরিচের চা
এই চা পাকস্থলীকে আরাম দিতে এবং পেট ফাঁপা বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি তৈরি করতে, এক কাপ গরম জলে ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ৩ মিনিট ঢেকে রাখুন বা ভিজতে দিন; এরপর সামান্য ঠান্ডা করে সামান্য গরম অবস্থায় পান করুন।
আনারস ও আদার চা
পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে এই চা অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি তৈরি করতে, একটি মাঝারি আকারের আনারস, ২ টেবিল চামচ কুচানো আদা এবং ১ টেবিল চামচ লবঙ্গ নিন। উপকরণগুলো ৪ কাপ জলে মিশিয়ে ১০ মিনিট ধরে ফোটান। এরপর মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা করে পান করুন।
লেবুর টুকরো সহ গ্রিন টি
এই চা শরীরের মেদ কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এটি তৈরি করতে, এক কাপ গরম জলে একটি গ্রিন টি-এর ব্যাগ এবং তিনটি লেবুর টুকরো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ ভিজতে দিন এবং গরম অবস্থায় পান করুন।
লেবু ও চিয়া বীজের চা
এই চা শরীরের বিপাকক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, পেট ফাঁপা কমায় এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে। এক কাপ ফুটন্ত জলে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং সামান্য আদা মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা হয়ে এলে এতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং চিয়া বীজ মিশিয়ে অবিলম্বে পান করুন।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ গরম চা পান করা আপনার দিনটিকে সার্থক করে তোলার একটি নিশ্চিত উপায়। ভারতে 'বেড টি' বা বিছানায় বসে চা পানের সংস্কৃতি একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, খালি পেটে চা পান করা ধীরে ধীরে আপনার কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? গবেষণায় দেখা গেছে যে, চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং অক্সালেট ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তাই খালি পেটে চা পান করা থেকে সর্বদা বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, এ বিষয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো কী বলছে, তা-ও জেনে নিন।
কিডনির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?
চায়ের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই অক্সালেট নামক উপাদানটি বিদ্যমান থাকে। কেউ যখন খালি পেটে চা পান করেন, তখন এই যৌগগুলো সরাসরি কিডনিতে গিয়ে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্সালেটগুলো ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্ফটিক বা ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা পরবর্তীতে কিডনিতে পাথরের আকার ধারণ করে। তাছাড়া, চা হলো একটি 'ডাইউরেটিক' বা মূত্রবর্ধক পানীয়; এর অর্থ হল এটি শরীর থেকে জল বের করে দেয়। খালি পেটে চা পান করলে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে রক্ত পরিশোধন করার জন্য কিডনিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
ক্যাফেইন এবং অম্লতা
'হেলথলাইন' জানিয়েছে, খালি পেটে চা খেলে চায়ের ক্যাফেইন রক্তচাপ হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ভেতরের ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া, চা প্রাকৃতিকভাবেই অম্লীয় বা অ্যাসিডিক প্রকৃতির। তাই খালি পেটে এটি পান করলে পাকস্থলীর পিত্তরসের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। খালি পেটে চা পান করলে চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন নামক উপাদানটি বমি বমি ভাব এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে, যা পরোক্ষভাবে কিডনির বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
লিকার চা নাকি দুধ চা- কোনটা বেশি বিপজ্জনক?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আপনার যদি আগে থেকেই কিডনির কোনও রোগ (CKD) থাকে, তবে চা পান করার সঠিক সময়টি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'কিডনি নিউট্রিশন ইনস্টিটিউট'-এর মতে, দুধ দিয়ে তৈরি চা কিডনির জন্য তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ঝুঁকিপূর্ণ। এর কারণ হল, দুধের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরই চায়ের অক্সালেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে কিডনিতে পৌঁছানোর আগেই, শরীরের অন্যান্য বর্জ্য বা বিষাক্ত উপাদানের সঙ্গে অক্সালেটগুলোও শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। অক্সালেট-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সময় তার সাথে অন্য কোনও খাবার বা দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।