Advertisement

Heatwave Safety Tips: আগামী ৯ দিন তাপপ্রবাহে টেঁকা মুশকিল হবে, শরীর ঠান্ডা রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

এই দিনগুলিতে পারদ ৪০°C থেকে ৪৬°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার ফলে তৈরি হবে মারাত্মক হিটওয়েভ বা লু-এর পরিস্থিতি। তবে সামান্য অসাবধানতায় এই গরমে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।

আগামী ৯ দিন তাপপ্রবাহে টেঁকা মুশকিল হবে, শরীর ঠান্ডা রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শআগামী ৯ দিন তাপপ্রবাহে টেঁকা মুশকিল হবে, শরীর ঠান্ডা রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 25 May 2026,
  • अपडेटेड 9:18 PM IST

Heatwave Safety Tips: গ্রীষ্মের প্রখর দাপটে এমনিতেই পুড়ছে দেশ। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেল বছরের সবচেয়ে উত্তপ্ত ও কঠিন সময়, যা জ্যোতিষ ও আবহাওয়ার পরিভাষায় ‘নৌতপা’ নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই চরম গরমের মরশুম চলবে আগামী ২ জুন পর্যন্ত। এই ৯ দিন সূর্যের প্রখর তাপে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মৌসম ভবন (IMD) ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বেশ কিছু এলাকায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এই দিনগুলিতে পারদ ৪০°C থেকে ৪৬°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার ফলে তৈরি হবে মারাত্মক হিটওয়েভ বা লু-এর পরিস্থিতি। তবে সামান্য অসাবধানতায় এই গরমে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।

নৌতপার জেরে শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে?
এই তীব্র দাবদাহে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার মধ্যে প্রধান হলো,

ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি

হিট এক্সঅশন (অতিরিক্ত গরমে ক্লান্তি) ও মারাত্মক হিটস্ট্রোক

মাথা ঘোরা, চরম ক্লান্তি এবং শরীরের দুর্বলতা

ঘুমের অভাব, ত্বকে জ্বালাপোড়া ও ঠোঁট ফেটে যাওয়া।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
এই সময়ে মূলত শিশু, বয়স্ক মানুষ, হৃদরোগী (হার্ট পেশেন্ট), ডায়াবেটিস আক্রান্ত এবং যাঁরা জীবিকার তাগিদে রোদের মধ্যে বাইরে কাজ করেন, তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কী খাবেন আর কী খাবেন না? রইল আয়ুষ মন্ত্রকের প্রেসক্রিপশন
হিটওয়েভ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো শরীরকে সারাক্ষণ হাইড্রেটেড রাখা। তৃষ্ণা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে অল্প সময়ের ব্যবধানে জল পান করুন। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস বা প্রয়োজন অনুযায়ী ৩-৪ লিটার জল খাওয়া উচিত। শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবারের তালিকায় বেশ কিছু বিশেষ বদল আনার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক।

Advertisement

সেরা হাইড্রেটিং ড্রিঙ্কস
সাধারণ জলের পাশাপাশি প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন ডাবের জল, ঘোল বা ছাঁচ, লেবু জল, বেলের শরবত, ওআরএস (ORS), আম পন্না, ছাতুর শরবত, ফলের রস এবং লেমন মিন্ট ড্রিঙ্ক। আয়ুষ মন্ত্রক বিশেষভাবে তেঁতুলের জল, কাঁচা আমের পানীয়, খস জল, জিরে জল এবং ধনে জল খাওয়ার সুপারিশ করেছে।

উপকারী মরশুমি ফল ও খাবার
খাবারের তালিকায় রাখুন তরমুজ, খরমুজ, শসা, কাঁকুড়, আঙুর, কমলালেবু এবং রকমারি স্যালাড। এ ছাড়া টক দই, মুগ ডাল, হালকা খিচুড়ি, দই-ভাত এবং লাউ, টিণ্ডা ও ঝিঙের মতো জলসমৃদ্ধ সবজি খান। আয়ুষ মন্ত্রকের মতে, এই সময়ে পেঠা, মুনাক্কা ও ফালসা ফল খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

যা একদমই ছোঁয়া যাবে না
অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার, চর্বিজাতীয় ও ভারী ভোজন, জঙ্ক ফুড, আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। অনেকেই গরম কমাতে কোল্ড ড্রিঙ্কস বা দেদার আইসক্রিম খান, যা শরীরের ক্ষতি করে। এ ছাড়া মদ্যপান এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা-কফি) এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রোদ থেকে বাঁচতে লাইফস্টাইল টিপস, জেনে নিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত যখন রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। জরুরি কাজে বেরোতে হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখুন। হালকা রঙের সুতির (কটন) পোশাক পরুন। ত্বক ও চুলের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং চুলে নারকেল তেল লাগাতে পারেন।

বাড়ি ঠান্ডা রাখার উপায় ও ব্যায়ামের নিয়ম
দিনের বেলা ঘরের জানালা-পর্দা টেনে ঘর ঠান্ডা রাখুন। ফ্যান, কুলার বা এসি ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের জানলায় ভেজা পর্দা ঝোলালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। তবে একটানা অনেকক্ষণ এসি চালাবেন না। এই ক’দিন ভারী ওয়ার্কআউট বা জিম করা থেকে বিরত থাকুন। হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করতে হলে তা ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার ঠান্ডা আবহাওয়াতে সারুন।

বিপদ বুঝবেন কীভাবে?
যদি হঠাতই মাথা ঘোরে, বমি বমি ভাব দেখা দেয়, হৃদস্পন্দন বা ধড়ফড়ানি অত্যন্ত বেড়ে যায়, ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে কিংবা বিভ্রান্তি ও অজ্ঞান হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বুঝবেন এটি হিটস্ট্রোকের লক্ষণ। এমনটা দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement