
রান্না করা একটি শিল্প, যেখানে প্রতিটি ছোটখাটো পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। রান্নার কোনও পর্যায়ে সামান্য একটু ভুল হলেই খাবারের স্বাদ একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আর আপনার সব পরিশ্রম জলে যেতে পারে। মশলাপাতির দিকে আমরা সাধারণত কড়া নজর রাখলেও, নুন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই তেমন মাথা ঘামান না। অনেকেই ভাবেন, তরকারিতে কখন নুন দেওয়া হচ্ছে, তাতে কী-ই বা এসে যায়!
কিন্তু জানলে অবাক হবেন, রান্নায় ঠিক কোন সময়ে নুন দেওয়া হচ্ছে, তার উপর তরকারির স্বাদ, রং এবং টেক্সচার বা গঠন অনেকটাই নির্ভর করে। নুন খুব আগে বা খুব দেরিতে দিলে চমৎকার একটি পদেরও স্বাদ বিগড়ে যেতে পারে। তাই রান্নায় নুন দেওয়ার সঠিক সময়টি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ধরনের তরকারিতে ঠিক কখন নুন দেওয়া উচিত।
রান্নায় আগেভাগে নুন দিলে কী ক্ষতি হতে পারে?
১. অতিরিক্ত গলে যেতে পারে সবজি: লাউ, ঝিঙে বা পালং শাকের মতো জলীয় অংশ বেশি থাকে এমন সবজিতে রান্নার শুরুতেই নুন দিলে সবজি থেকে দ্রুত জল বেরোতে শুরু করে। এর ফলে সবজি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গলে গিয়ে একেবারে কাদা-কাদা হয়ে যেতে পারে, নষ্ট হয়ে যায় তরকারির আসল টেক্সচার।
২. সবুজ রং ফিকে হয়ে যায়: সবুজ শাকসবজিতে আগে নুন দিয়ে দিলে তার উজ্জ্বল সবুজ রং ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হতে থাকে। পালং, মেথি এবং বিনসের মতো সবজি রান্না করার সময় এই বিষয়টি সহজেই চোখে পড়ে।
৩. পুষ্টিগুণ কমতে পারে: সবজি থেকে যখন অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়, তখন তার মধ্যে থাকা বেশ কিছু জরুরি ভিটামিন ও পুষ্টিগুণও সেই জলের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়।
খুব দেরিতে নুন দেওয়াও কিন্তু ঠিক নয়
তরকারি প্রায় তৈরি হয়ে যাওয়ার পর নুন দিলে অনেক সময়েই তা সবজির সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না। ফলে তরকারির কোথাও নুন বেশি লাগে, আবার কোথাও নুন একেবারেই মালুম হয় না। এতেও খাবারের স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়।
কোন তরকারিতে ঠিক কখন নুন দেবেন?
১. শুকনো বা ভাজা তরকারির ক্ষেত্রে: আলু, ঢেঁড়স বা পটলের মতো শুকনো তরকারি রান্নার সময় মশলা কষানোর পর এবং কড়াইতে সবজি দেওয়ার কয়েক মিনিট বাদে নুন দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।
২. জলজাতীয় সবজির ক্ষেত্রে: লাউ, চালকুমড়ো বা ঝিঙের মতো সবজিগুলো আগে একটু ভালো করে কষিয়ে বা সাঁতলে নেওয়া উচিত। কিছুটা ভাজা ভাজা হওয়ার পর নুন দিন, যাতে সবজি থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে না যায়।
৩. সবুজ শাকসবজির ক্ষেত্রে: পালং, মেথি বা সর্ষে শাক রান্না করার সময় শাক যখন প্রায় সেদ্ধ হয়ে আসবে, তখন নুন দিন। নামানোর ঠিক কয়েক মিনিট আগে নুন দিলে শাকের স্বাদ ও রং— দুই-ই অটুট থাকে।
৪. প্রেসার কুকারে রান্নার ক্ষেত্রে: যদি প্রেসার কুকারে তরকারি বা ডাল রান্না করেন, তবে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করার ঠিক আগেই নুন দেওয়া সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
খেয়াল রাখুন নুনের পরিমাণেও
শুধু সঠিক সময় নয়, নুনের সঠিক পরিমাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত নুন যেমন খাবারের স্বাদ নষ্ট করে, তেমনই শরীরেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই রান্নায় প্রথমে একটু কম নুন দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, পরে প্রয়োজন বুঝলে চেখে দেখে নুনের পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে।