
আলু ছাড়া বাঙালির চলে না। ভাজা, সেদ্ধ, ঝোল, ঝাল, অম্বল প্রায় সবেতেই আলুর ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী। তাই বাজার থেকে আলু কেনার সময় অনেকেই শুধু দাম ও আকারের দিকে নজর দেন। কিন্তু পরের বার আলু কেনার সময় তার ধরন ও গুণমানের দিকেও নজর দিন। তাহলে রান্না করার পর স্বাদের ফারাকও বুঝতে পারবেন।
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, একইভাবে রান্না করার পরও কোনও কোনও আলু খুব সহজেই ভেঙে বা গলে যায়। আবার কখনও সখনও নিজের আকার ধরে রাখে। সেদ্ধ হয়ে গেলেও নিজের আকার ধরে রাখে। এর কারণ কিন্তু রান্নার পদ্বতি নয়। বরং আলুর জাত, কতটা স্টার্চ (আলুর ভিতরে থাকা এক ধরনের শর্করা, যা রান্নার সময় আলুর টেক্সচার বদলে দেয়) রয়েছে ইত্যাদি।
বাজারে সাধারণত সাদা ও হলুদ রঙের আলু দেখা যায়। তবে শুধু রং দেখেই আলুর গুণমান বা রান্নার উপযোগিতা নির্ধারণ করা যায় না। কোন আলু কোন রান্নার জন্য ভালো, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার স্টার্চ ও টেক্সচারের উপর।
সাদা ও হলুদ আলুর মধ্যে পার্থক্য কী?
আলুর রং দেখে তার সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্য বোঝা সম্ভব নয়। আসল পার্থক্য তৈরি হয় আলুর জাত, স্টার্চ এবং আর্দ্রতার পরিমাণের কারণে। রান্নার পর আলুর টেক্সচার কেমন হবে, সেটিও অনেকটা এই বিষয়গুলির উপর নির্ভর করে।
যেসব আলুতে স্টার্চের পরিমাণ বেশি, সেগুলি রান্নার পর তুলনামূলকভাবে শুকনো, হালকা এবং ফ্লাফি হয়। এই ধরনের আলু এমন রান্নার জন্য ভালো, যেখানে আলুকে সহজে ম্যাশ বা নরম করতে হয়। এমনটা হয় সাদা আলুর ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে, হলুদ আলু সাধারণত তুলনামূলকভাবে ক্রিমি ও ফার্ম টেক্সচারের হয়। রান্নার পরেও অনেক সময় এগুলি নিজেদের আকার ধরে রাখে। ফলে যে রান্নায় আলুর টুকরো ভেঙে যাওয়া কাম্য নয়, সেখানে এই ধরনের আলু ভালো বিকল্প হতে পারে।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও ম্যাশড পটেটোর জন্য কোন আলু ভালো?
আপনি যদি ক্রিস্পি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই অথবা হালকা ও ফ্লাফি ম্যাশড পটেটো তৈরি করতে চান, তাহলে বেশি স্টার্চযুক্ত আলু বেছে নেওয়া যেতে পারে। এই ধরনের আলু দিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরি করলে বাইরে ভালোভাবে ক্রিস্পি এবং ভিতরে নরম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার ম্যাশড পটেটো তৈরির সময়ও এগুলি সহজে ভেঙে গিয়ে স্মুথ ও হালকা টেক্সচার তৈরি করতে সাহায্য করে।
খাসির মাংস, স্টু বা স্যালাডের জন্য হলুদ আলু কেন ভালো?
বাঙালিরা খাসি বা চিকেনে আলু খান। তাই যদি চান সেদ্ধ করার পরও আলু ঠিক থাকবে, তাহলে খাসির মাংস বা চিকেনে হলুদ আলু দিন। এছাড়াও স্যালাড, স্টু বা স্যুপেও এই আলুর ব্যবহার করা ভালো। কারণ, ফার্ম টেক্সচারের হলুদ আলু রান্নার পরেও তুলনামূলকভাবে নিজের আকার ধরে রাখতে পারে।
আলু সেদ্ধ করার সময় এই ভুল করবেন না
আলুর সঠিক ধরন বেছে নেওয়ার পাশাপাশি রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আলু সেদ্ধ করার সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ধরে রান্না করলে এর টেক্সচার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত সেদ্ধ করলে আলু বেশি জল শুষে নিয়ে অত্যন্ত নরম হয়ে যেতে পারে এবং টুকরোগুলি ভেঙে যেতে পারে। তাই আলু সেদ্ধ করার সময় ঠান্ডা জল থেকে শুরু করা এবং রান্নার সময়ের দিকে নজর রাখা ভালো।
সাদা না হলুদ, কোন আলু বেশি ভালো?
আলু কেনার সময় শুধু তার রং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং প্রথমে ঠিক করুন, আপনি কোন রান্নাটি করতে চাইছেন। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ম্যাশড পটেটো বা বেকড পটেটোর জন্য বেশি স্টার্চযুক্ত, তুলনামূলকভাবে সাদা আলু বেছে নেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, মাটন বা চিকেনে, তরকারিতে, আলুর স্যালাড, স্টু বা সেদ্ধ আলুর জন্য ফার্ম টেক্সচারের হলুদ আলু ভালো বিকল্প হতে পারে। রান্নার পরেও এগুলি তুলনামূলকভাবে নিজের আকার ধরে রাখে।
অর্থাৎ, আসল প্রশ্ন সাদা আলু ভালো না হলুদ আলু- এটা নয়। বরং প্রশ্ন হল, আপনি কোন পদ তৈরি করছেন এবং সেই পদের জন্য আলুর কেমন টেক্সচার প্রয়োজন। সঠিক ধরনের আলু বেছে নিতে পারলে সাধারণ একটি আলুও আপনার রান্নার স্বাদ, টেক্সচার এবং সামগ্রিক মান অনেকটাই ভালো করে দিতে পারে।