Advertisement

Bhoger Khichuri Recipe: ভোগের খিচুড়ির টেস্ট Better হয় কেন? রহস্যটা জানা গেল

ভোগের খিচুড়ির এই স্বর্গীয় স্বাদের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত প্রাচীন ও সুনির্দিষ্ট কিছু রান্নার পদ্ধতি।

ভোগের খিচুড়ির রেসিপিভোগের খিচুড়ির রেসিপি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 21 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:48 PM IST

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, মন্দির বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভোগের খিচুড়ির স্বাদই আলাদা হয়। সাধারণ বাড়িতে তৈরি খিচুড়ির চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং বহুগুণ সুস্বাদু হয়ে থাকে। আমরা বাড়িতে হাজার চেষ্টা করেও কেন সেই অসামান্য স্বাদ ও গন্ধ হুবহু ফুটিয়ে তুলতে পারি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতুহল থাকে। অনেকেই ভাবেন এটি কেবল ঈশ্বরের আশীর্বাদ বা প্রসাদের মাহাত্ম্য। অবশ্যই আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ভক্তিসূত্র এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি, তবে রন্ধনবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও ভোগের খিচুড়ির এই স্বর্গীয় স্বাদের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত প্রাচীন ও সুনির্দিষ্ট কিছু রান্নার পদ্ধতি।
প্রথম এবং প্রধান রহস্য লুকিয়ে রয়েছে উপকরনে। ভোগের খিচুড়িতে কখনই সাধারণ চাল ব্যবহার করা হয় না; এতে ব্যবহার করা হয় সুগন্ধি ছোট দানার গোবিন্দভোগ চাল এবং সোনা মুগ ডাল। চালের কোয়ালিটি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডাল সরাসরি সেদ্ধ না করে, শুকনো কড়াইতে ধীর আঁচে হালকা সোনালি করে ভেজে নেওয়া হয়। ভাজার সময় ডালের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিন ও শর্করার মধ্যে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মালাইয়ার্ড রিঅ্যাকশন’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলেই ভাজা মুগ ডাল থেকে এক অপূর্ব মিষ্টি গন্ধ ও স্বাদের তৈরি হয়, যা এই খিচুড়ির প্রধান ভিত্তি।

দ্বিতীয়ত, রান্নার পাত্র এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ। ভোগের খিচুড়ি সাধারণত পিতল বা তামার মস্ত বড় হাঁড়িতে খোলামেলা জায়গায় তৈরি করা হয়। কখনও প্রেসার কুকারে সিটি দিয়ে এটি বানানো হয় না। খোলা হাঁড়িতে ফুটন্ত জলে চাল ও ডাল ধীরে ধীরে সেদ্ধ হওয়ার ফলে প্রতিটি দানা সমানভাবে সেদ্ধ হয় এবং খিচুড়ির থকথকে ভাব বা টেক্সচার একদম নিখুঁত হয়। এ ছাড়া রান্নায় অতিরিক্ত কৃত্রিম মশলা বা গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করা হয় না। স্রেফ টাটকা আদা বাটা, জিরে বাটা, চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং তেজপাতা ও গোটা জিরে ফোঁড়ন দেওয়া হয়।

Advertisement

সবশেষে যুক্ত হয় ঘি ও বিশেষ গরম মশলার যাদু। রান্না প্রায় শেষ হয়ে এলে ওপর থেকে প্রচুর পরিমাণে গাওয়া ঘি, সামান্য কাজু-কিসমিশ, সামান্য চিনি এবং জায়ফল, জয়ত্রী, এলাচ ও দারচিনি গুঁড়ো করে তৈরি বিশেষ গরম মশলা ছড়িয়ে হাঁড়ির মুখ কিছুক্ষণের জন্য ঢাকা দিয়ে রাখা হয়। এই ধীরগতির রান্না এবং নিখুঁত উপাদানের অনুপাতই হলো ভোগের খিচুড়ির আসল রহস্য।  

Read more!
Advertisement
Advertisement