
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেটে বিরাট ঘোষণা হয়েছে আয়ুষ নিয়ে। এবার রাজ্যে নতুন আয়ুষ বিভাগ তৈরির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি জানালেন, এই নতুন বিভাগের কাজের সুবিধার্থে রাজ্যের সদর দফতর এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল কর্মী নিযুক্ত করা হবে। নতুন বিভাগ এবং কর্মী নিয়োগের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যে আয়ুষ স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বেশি শক্তিশালী, কার্যকর করে তোলা।
আর বাজেটে এই ঘোষণারই প্রশংসা করছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসেকরা। এই প্রসঙ্গে অখিল ভারতীয় আয়ুর্বেদ মহাসম্মেলনের রাজ্য সভাপতি ডা: সুমিত সুর বলেন, 'আমি এই বাজেটকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিছুদিন আগেই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণীর একটি সভা থেকে নীতিগত বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে এর প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত রূপরেখা এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি বাকি ছিল। আজ বাজেটের মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রী সেটি ঘোষণা করে দিয়েছেন। এর ফলে আগামিদিনে আমরা পশ্চিমবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ আয়ুষ দফতর দেখতে পাব। এই সিদ্ধান্তে সমস্ত আয়ুষ চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং এই ব্যবস্থার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সকলে অত্যন্ত আনন্দিত।'
তাঁর আরও মন্তব্য, 'আয়ুষের জন্য বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি লক্ষ্য করার মতো। ২০১৪ সালে ন্যাশনাল আয়ুষ মিশন চালু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এতে যুক্ত হয়েছিল। তবে তাতে সচেতনতা বা সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা যেত। যদিও এবার পরিস্থিতি বদলেছে। গত বছর যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাজেট ছিল প্রায় ৮৪ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এবার তা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়ে ২১০ কোটি ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এই বরাদ্দের ফলে পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি আয়ুষ চিকিৎসকদের নিয়োগের প্রক্রিয়াও বৃদ্ধি পাবে। আমি আশা করি সরকার নজর দেবে যাতে আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রতিটি গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছতে পারে।'
কী চাহিদা?
এই বাজেটের পরই অবশ্য একাধিক দাবিও সামনে রেখেছেন চিকিৎসকেরা। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক মহলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসে এখানে বহু আয়ুর্বেদ কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের তীব্র সঙ্কট রয়েছে। তাই নতুন চিকিৎসক তৈরি করতে হলে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৫টি নতুন আয়ুর্বেদ কলেজ চালু করা হোক। তাহলেই চিকিৎসকের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে বঙ্গীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসক সঙ্ঘের সভাপতি ডাঃ তুষারকান্তি মন্ডল বলেন, 'রাজ্যে প্রায় ১৫০০ জন গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কর্মরত আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার, প্রায় ১২০০ জন RBSK প্রোগ্রামে আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার, ৪০০ জন আয়ুর্বেদ - মেডিক্যাল অফিসার আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে কর্মরত। এছাড়া ৮৫ জন কন্ট্র্যাকচুয়াল আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন, যাঁরা পার্মানেন্ট স্টাফের মতো একই কাজ করেন। কিন্তু মাত্র ১০%-৪০% মাত্র মাইনে পান। ভারতের বহু রাজ্যের আয়ুষ চিকিৎসকদের এই সংক্রান্ত সম বেতন কাঠামোয় নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবী।'
এছাড়া তাঁদের আরও দাবি, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি যদি বেসরকারি স্তরেও আরও কিছু আয়ুর্বেদ কলেজ বা পরিকাঠামো তৈরি করা হোক। তাহলে সামগ্রিক ব্যবস্থার হাল ফিরবে। পাশাপাশি আয়ুর্বেদ নিয়ে গবেষণা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই তুলনায় উন্নত গবেষণা পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। সেই দিকেও নজর দেওয়ার পক্ষপাতি তাঁরা।
এছাড়া রাজ্যে যাতে আরও ওষুধ তৈরির পরিকাঠামো থাকে, সেটাও নিশ্চিত করার দাবি জানালেন চিকিৎসকেরা। সেই সঙ্গে আয়ুর্বেদের আউটডোর বৃদ্ধির বিষয়েও সওয়াল করছেন তাঁরা। এখন দেখার সরকার কত দ্রুত এই বিষয়গুলির দিকে নজর দেয়।