
(লিখছেন বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র)
ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই অসুখের ফাঁদে পড়লে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না। কিডনি, লিভার, হার্ট থেকে শুরু করে একাধিক অঙ্গের হতে পারে ক্ষতি। তাই যেভাবেই হোক ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে হবে।
আর ভাল খবর হল, মাত্র ১৫ মিনিট খরচ করলেই অনায়াসে কমানো যাবে সুগার। ভাবছেন কীভাবে? সেই উত্তর রইল।
কীভাবে কমাবেন সুগার?
সুগার কমানোর একটা সহজ টোটকা দিচ্ছি শুনুন। ডায়াবেটিসকে কন্ট্রোলে রাখতে চাইলে খাবার খাওয়ার পর ১৫ মিনিট সিঁড়ি ওঠানামা করতে হবে। তাহলেই লাভ পাবেন।
চেষ্টা করুন দিনের তিনটি বড় মিলের পরই এই নিয়মটা মেনে চলার। অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনারের পর এই কাজটা করতে হবে। তাহলেই দেখবেন কমে যেতে পারে সুগার।
আসলে খাবার খাওয়ার পর আমাদের রক্তে সুগার লেভেল হুট করে বেড়ে যায়। যার ফলে একাধিক অঙ্গের হতে পারে ক্ষতি। তবে এমন পরিস্থিতিতে যদি দিনে ১৫ মিনিটের মতো একটু সিঁড়ি ওঠানামা করে ফেলেন, তাহলে কাজ হবে। দেখবেন কমে যাবে সুগার লেভেল। তাই চিন্তার কিছুই নেই।
কারা সাবধানে সিঁড়ি ওঠানামা করবেন?
যাঁদের হাঁটুতে ব্যথা রয়েছে, তাঁরা সাবধান হন। আপনারা সিঁড়ি ওঠানামা করলে আদতে সমস্যায় পড়বেন। বাড়তে থাকবে হাঁটু ব্যথা। তাই হাঁটুতে ব্যথা থাকলে এই কাজটা করবেন না। তাঁর বদলে আপনারা ছাদে গিয়ে ১৫ মিনিট হেঁটে নিন। তাহলেই কাজ হবে।
এছাড়া যদি কারও গুরুতর হার্টের সমস্যা থাকে, তাহলেও সিঁড়ি ওঠানামার আগে সাবধান হতে হবে। নইলে বড় কোনও জটিলতা হতে পারে। এই শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাঁটার আগেও একবার নিজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডায়েটে বদল আনুন
শুধু শরীরচর্চা করে কোনও লাভ হবে না। পাশাপাশি আপনাকে ডায়েটে বদল করতে হবে। প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন শাক, সবজি, ডালিয়া, ওটস, অল্প ভাত এবং রুটি। এছাড়া মাছ, মাংস এবং ডিম খেতে হবে।
খাওয়া চলবে না অতিরিক্ত ভাত, মিষ্টি, চকোলেট এবং আইসক্রিম। এমনকী যে কোনও ধরনের ভাজা খাবার এড়িয়ে যান। এছাড়া খাওয়া যাবে না কোনও ধরনের আলট্রা প্রসেসড ফুড। ব্যাস, এই নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
ওষুধ খেতে হবে
এই সবের পাশাপাশি নিজের ওষুধ খান সময় মতো। ডোজ মিস করবেন না। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের কথা মতো সুগার মাপুন। ফলো আপে থাকুন। ব্যাস, তাহলেই সুগার লেভেল কমিয়ে ফেলতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।