
'কার্শিয়াঙে একটা বিয়েবাড়ি হয়েছে, সেখানে সাত দিন ধরে শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াঙের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের একদম সারাদিন ধরে রাউন্ড দ্য ক্লক ডিউটি দিতে হয়েছে', সরকারি স্বাস্থ্য শিবিরের নামে এভাবেই অনিয়ম চলেছে বলে অভিযোগ করলেন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এই সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে এভাবে স্বাস্থ্য শিবির বা মেডিক্যাল ক্যাম্প বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in-কে ডা: বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গাতে মেডিক্যাল ক্যাম্পের নাম করে ডাক্তার পাঠানো, নার্স পাঠানো এবং স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর বিষয়টা একবারে বিরক্তিকর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। খরা, বন্যা, মহামারী এসব পরিস্থিতি হয়, দুর্গম-দুর্গত এলাকা হয়, সেখানে মেডিক্যাল ক্যাম্প হলে কোনও সমস্যা নেই। এটাই আমাদের কাজ। কিন্তু এরকম অভিজ্ঞতা আমাদের আছে, যে কারও বিয়ে হচ্ছে, সেখানে সাত দিন ধরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। কলকাতাতেও এরকম ঘটনা হয়েছে। বিয়ে বাড়িতে পর্যন্ত মেডিক্যাল ক্যাম্প দিতে হবে এমন নির্দেশ আসে বিএমওএইচ ও সিএমওএইচ-এর কাছে।'
পাশাপাশি তিনি জানালেন, রবিবার রাতে বসিরহাটে রাতে খেলার দেখার সময় মেডিক্যাল ক্যাম্প করার খবর সামনে এসেছে। ওই সময় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বসে থাকতে হয়েছে। ডা: বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটা একটা অর্থহীন কাজ। এর জন্য চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতালে ডিউটি দিতে পারছেন না। হাসপাতালে পরিষেবা মিলছে না।
তাই সংগঠনের তরফ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে তারা, মেডিক্যাল ক্যাম্প কোথায় হবে, তার একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল তৈরি করার দাবি জানিয়েছে। তারা চাইছে যাতে যখন-তখন যেখানে-খুশি মেডিক্যাল ক্যাম্প না করা হয়। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের যেন এভাবে হেনস্থা না করা হয়।
ডা: বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা মনে করি, চিকিৎসা পরিষেবাটা হাসপাতালেই দিতে হবে। সেখানে চিকিৎসা করতে, পরিষেবা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ডাক্তারেরা।'
পাশাপাশি সংগঠন দাবি করে, যে কোনও প্রয়োজনের সময় হেলথ ক্যাম্প হতে পারে। খরা, বন্যা বা প্রকৃতিক দুর্যোগে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা যায়। কিন্তু অন্য কোনও কারণে সরকারি ডাক্তার ও চিকিৎসকদের ব্যবহার করা উচিত নয়। তাতে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয় বলে মনে করছে তারা। যদিও এই বিষয়টা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি স্বাস্থ্য়ভবন।