
(লিখছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাডপ্রেশার একটি জটিল ক্রনিক অসুখ। এই রোগে আক্রান্ত হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না। আর খারাপ খবর হল, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু ভুলেই ব্লাডপ্রেশার বাড়ে। তাই সেই সকল ভুলগুলি শুধরে নিতে হবে। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না। তাই ঝটপট সাবধান হন। বিশ্ব হাইপারটেনশন দিবসের আগে জেনে নিন কোন কোন কারণে বাড়ে প্রেশার।
ঘুম না হওয়া
অনেকেই দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টারও কম সময় ঘুমান। আর এই ভুলটা করেন বলেই বিপদ বাড়ে। এর ফলে শরীর এবং মস্তিষ্কের উপর চাপ বাড়ে। দেহে স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ব্লাড প্রেশার বাড়ে। তাই এখন থেকে দিনে অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এর থেকে কম সময় ঘুমানো যাবে না। তাহলেই প্রেশার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
স্ট্রেস
আপনি কি খুব স্ট্রেস নেন? সারাদিন চাপের মধ্যে থাকেন? তাহলে যে কোনওভাবেই প্রেশার কমাতে পারবেন না। কারণ, সারাদিন দুশ্চিন্তা করলে দেহে স্ট্রেস হরমোন বাড়বে। আর সেটা ব্লাডপ্রেশার বৃদ্ধি করতে পারে। তাই এই ভুল আর নয়। বরং মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন।
নুন খেলেই গেল
আপনাকে অবশ্যই নুনের থেকে দূরে থাকতে হবে। দিনে ৩ থেকে ৪ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া যাবে না। এই ভুলটা করলে আদতে প্রেশার বাড়বে। তাই এখন থেকে নুন খান মেপে। নুন বেশি খেলেই ফাঁসবেন।
ওজন বেশি থাকা
অনেকেরই ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকে। আর শরীরে মেদ বেশি থাকলে প্রেশার বাড়তে পারে। এমনকী সুগার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও প্রবল হতে পারে। তাই এখন থেকেই ওজন কমানোর কাজে লেগে পড়ুন। তাহলেই বিপি আসবে কন্ট্রোলে। পাশাপাশি অন্য বহু অসুখও দূরে থাকবে।
এই সব খাবার খেলেও বিপদ
অনেকেই হয়তো নুন কম খান। কিন্তু নিয়মিত ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড, আচার, চিপসের মতো খাবার খান। আর এই সব খাবারে প্রচুর পরিমাণ নুন থাকে। এগুলি খেলেও শরীরের হাল বিগড়ে যাবে। বেড়ে যেতে পারে প্রেশার লেভেল। তাই এই ভুল করা যাবে না।
কী কী বিপদে হতে পারে?
ব্লাড প্রেশার দীর্ঘদিন বেশির দিকে থাকলে কিডনি খারাপ হতে পারে। স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চোখের হাল বিগড়ে যেতে পারে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আমাদের তরফে এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে জানান হচ্ছে না।