
বর্ষার পর চড়া রোদ আর দম বন্ধ করা প্যাচপ্যাচে গরমে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। শরীর সতেজ রাখতে ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার হলেও, তার দাম এখন আকাশছোঁয়া। তবে পকেটে টান না ফেলেও শরীরকে ঠাণ্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা সম্ভব। জেনে নিন ডাবের সস্তা অথচ অত্যন্ত পুষ্টিকর কিছু বিকল্প।
আকাশে মেঘের আনাগোনা চললেও ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রেহাই নেই। রাস্তায় বেরোলেই দরদর করে ঘাম, আর তার সঙ্গেই অনবরত গলা শুকিয়ে যাওয়া। শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে পুষ্টিবিদরা বারবার ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে একটি ডাবের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কোথাও বা তার থেকেও বেশি! প্রতিদিন এই খরচের ধাক্কা সামলানো সাধারণ মানুষের পক্ষে বেশ কঠিন।
তবে কি উপায় নেই? চিন্তার কিছু নেই। হাতের কাছেই রয়েছে এমন কিছু দেশি ও অত্যন্ত পকেট-বান্ধব বিকল্প, যা শরীরে ডাবের মতোই পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগান দেয় এবং পেট ঠাণ্ডা রাখে।
১. তরমুজের রস
গরমের দিনে পকেটের রেস্ত বাঁচিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর সেরা উপায় তরমুজ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জল, পটাশিয়াম, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা মেটাতে এবং নিমেষে শরীরে শক্তির জোগান দিতে তরমুজের রস অত্যন্ত কার্যকরী।
২. লাউয়ের রস
সবজি হিসেবে লাউ অনেকেরই পছন্দ নয়, তবে এর রস শরীরের জন্য এক কথায় ‘সুপারফুড’। লাউয়ের প্রায় ৯২ শতাংশই জল। এ ছাড়াও এতে ক্যালশিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। গরমের দিনে শরীর ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে নিয়মিত এক গ্লাস লাউয়ের রস দারুণ কাজ দেয়।
৩. চালকুমড়োর রস
শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে চালকুমড়োর রসের বিকল্প নেই। এতে প্রায় ৯৬ শতাংশ জলীয় উপাদান থাকে। জিংক, ক্যালশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর এই রস শরীর দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখে এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে তৈরি হওয়া ক্লান্তি ভাব দূর করে।
৪. কলার থোড়ের রস
খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার বলা চলে কলার থোড়কে। এর রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম মেলে। গরমের দিনে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এবং ভেতরে জমে থাকা টক্সিন বা ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এই পানীয় বেশ উপকারী।
৫. চিচিঙার রস
তালিকায় শেষ নাম চিচিঙা। ফাইবারে সমৃদ্ধ এই সবজির রসে মেলে ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি কেবল পেটের গোলমাল কমায় তা-ই নয়, প্রখর গরমে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।
এক নজরে: শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বেরিয়ে গেলে শুধু জল খেলে সব সময় ঘাটতি মেটে না। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম এনার্জি ড্রিঙ্ক না খেয়ে প্রাকৃতিক এই ঘরোয়া জুসগুলি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কিডনির সমস্যা বা অন্যান্য জটিল রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় বদল আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।