
Constipation Relief: সকালে উঠে পেট পরিষ্কার হচ্ছে না? দিনের পর দিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন? তার সঙ্গে আবার পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা পেটে ভারী লাগার সমস্যা রয়েছে? এমন হলে খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রোজের খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার না থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে।
ফল হতে পারে সেই ঘাটতি মেটানোর সহজ উপায়। বেশ কিছু ফলে রয়েছে খাদ্যতন্তু বা ফাইবার। এই ফাইবার মল নরম রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচলে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু ফল খেলেই সমস্যা পুরোপুরি সেরে যাবে, এমন নয়। পর্যাপ্ত জল খাওয়াও জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলাও উপকারী।
কোন কোন ফল পেটের জন্য ভাল হতে পারে?
পাকা পেঁপে
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পাকা পেঁপের নাম অনেকেই জানেন। পেঁপেতে রয়েছে ফাইবার এবং জল। ফলে নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে বা দিনের অন্য সময়ে এক বাটি পাকা পেঁপে খেতে পারেন।
পেয়ারা
পেয়ারায় রয়েছে ভাল পরিমাণে খাদ্যতন্তু। ফলে পেটের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এটি সাহায্য করতে পারে। তবে পেয়ারা ভাল করে ধুয়ে খাওয়া উচিত। খুব বেশি পরিমাণে একসঙ্গে না খেয়ে অল্প দিয়ে শুরু করাই ভাল।
আপেল
আপেলের খোসাতেও রয়েছে ফাইবার। তাই ভাল করে ধুয়ে খোসা-সহ আপেল খেতে পারেন। আপেলের ফাইবার মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে যাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ফল খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে, তাঁরা নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবেন।
কমলালেবু
কমলালেবুতে জল ও ফাইবার দু’টিই রয়েছে। ফলে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি খাবারে ফাইবারের পরিমাণও বাড়াতে পারে। জুস করে না খেয়ে গোটা ফল খাওয়াই ভাল। এতে ফাইবারের বড় অংশটিও পাওয়া যায়।
কিউই
কিউইতেও রয়েছে প্ল্যান্ট ফাইবার। কিছু গবেষণায় কিউই খাওয়ার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ কমার সম্পর্ক দেখা গিয়েছে। তাই ফলের তালিকায় মাঝে মাঝে কিউই রাখতে পারেন। তবে দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
শুধু ফল খেলেই হবে না
কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে খাবারে ফাইবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলও দরকার। দিনে নিয়মিত জল খান। শাকসব্জি, ডাল, গোটা শস্য এবং অন্যান্য ফাইবারযুক্ত খাবারও পাতে রাখুন। একসঙ্গে অনেক বেশি ফাইবার খাওয়া শুরু করলে উল্টে পেট ফাঁপা বা গ্যাস বাড়তে পারে। তাই ধীরে ধীরে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো ভাল।
শরীরচর্চার অভ্যাসও জরুরি। প্রতিদিন কিছুটা হাঁটাচলা করলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তবে দীর্ঘ দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, পেটে তীব্র ব্যথা হলে, মলে রক্ত দেখা গেলে বা হঠাৎ ওজন কমতে থাকলে শুধু ফল খেয়ে সমস্যা সামলানোর চেষ্টা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।