
ভারতে বাড়ছে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে প্রভাব বাড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের ফাঁদে পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। তারপরই অনেকে প্রশ্ন করছেন, এখন থেকেই কি মাস্ক পরা শুরু করে দেওয়া উচিত? আর এই প্রশ্নের উত্তরটাও দিয়েছেন কলকাতার বিশিষ্ট সব চিকিৎসকেরা।
করোনা থেকে বাঁচতে কি এখনই সবাইকে মাস্ক পরতে হবে?
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: অরিন্দম বিশ্বাসের কথায়, 'এখন বর্ষা চলছে। হুট করে বদলে গিয়েছে আবহাওয়া। তাই ভাইরাল ইনফেকশন বাড়ছে। এমনকী কোনও কোনও রাজ্যে কোভিড ছড়িয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। তবে এখনই যে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে, এমনটা কিন্তু নয়। যদিও পরলে ভালই। বিশেষত, বয়স্কদের মাস্ক পরতে হবে।'
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র বলেন, 'মাস্ক পরাটা ভাল অভ্যাস। এটা পরে থাকলে করোনা থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ভাইরাসও কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই ডায়াবেটিস থাকলে বা অন্য কোনও কারণে ইমিউনিটি কমে গেলে মাস্ক পরতে হবে। নইলে বিপদ হতে পারে।'
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: উৎসব দাসের মতে, শুধু কোভিড নয়, যে কোনও ভাইরাস থেকেই আমাদের বাঁচায় মাস্ক। এটা পরলে কিছুটা হলেও দূষণ থেকেও বাঁচা যায়। ফুসফুস ভাল থাকে। তাই ভিড়ে গেলে বা রাস্তায় বেরলে মাস্ক পরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাতে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব হবে।
মাস্ক কীভাবে কোভিড থেকে বাঁচাতে পারে?
আসলে করোনাভাইরাস ড্রপলেটের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আরও সহজে বললে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় মুখ থেকে যেই তরল বিন্দু বেরিয়ে আসে, সেটা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেই বিপদ। এর মাধ্যমে ভাইরাসও দেহে প্রবেশ করতে পারে। তবে মাস্ক পরা থাকলে মুখ থেকে ড্রপলেট বেরনোর বা প্রবেশের কোনও রাস্তা থাকে না। তাই করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরা উচিত।
কোন ধরনের মাস্ক পরা উচিত?
এই চিকিৎসকদের মতে, সবথেকে ভাল কাজ করে এন৯৫ মাস্ক। যদি সেটা না চান, তাহলে সার্জিক্যাল মাস্কও পরা যায়। আর কিছু না থাকলে কাপড়ের মাস্কের উপরই ভরসা রাখতে হবে। তবে কাপড়ের মাস্কে খুব একটা সুরক্ষা মেলে না।
এই সব লক্ষণে সাবধান
করোনার প্রকোপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচির মতো সমস্যা কয়েক দিন থাকলেই সাবধান হন। বিশেষত, শ্বাসকষ্ট হলে বাড়িতে বসে থাকা যাবে না। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি বললে টেস্ট করুন। তারপর নিয়ম মেনে ওষুধ খান। তাহলেই সেরে উঠতে পারবেন।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।