
(লিখছেন পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায়)
এলডিএল কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। এটি খারাপ কোলেস্টেরল। লিপিড প্রোফাইল রিপোর্টে এলডিএল বেশি থাকার অর্থ হার্টের অসুখের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাওয়া। তাই এলডিএল কোলেস্টেরলকে বাগে আনা খুবই জরুরি।
যদিও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমাদের অতি পরিচিত কিছু ফল খেলেই এলডিএল থাকবে কন্ট্রোলে। কারণ, ফলে মজুত ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে বিরাট ভূমিকা নিতে পারে।
তাই আর সময় নষ্ট নয়, বরং জেনে নিন কোন ৫ ফল খেলে কোলেস্টেরল কন্ট্রোল করতে পারবেন।
আপেলকে রাখুন ডায়েটে
আপেলে পেকটিন নামক ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে। যার ফলে রক্তে এলডিএল লেভেল বাড়ার সুযোগ পায় না। তাই নিয়মিত পরিমাণমতো আপেল খান। তাতেই সুস্থ থাকবে হার্ট। পাশাপাশি আরও নানাবিধ উপকার পাবেন।
কমলালেবুর তুলনা নেই
কমলালেবু একটি সেরার সেরা ফল। এতে ভিটামিন সি ও ফাইবার রয়েছে ভাল পরিমাণে। শুধু তাই নয়, এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটা শরীরের হাল ফেরানোর কাজে একাই একশো। এমনকী এটা খেলে কোলেস্টেরলকেও বাগে আনতে পারবেন।
বেরি জাতীয় ফলও রাখুন ডায়েটে
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি ইত্যাদিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটা প্রদাহ কমাতে এবং রক্তনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। তাই নিয়মিত বেরি জাতীয় ফল খাওয়া শুরু করে দিন। তাতেই শরীরের হাল ফেরাতে পারবেন।
অ্যাভোকাডোকে ভুললে চলবে না
সেরার সেরা একটি ফল হল অ্যাভোকাডো। এতে থাকা মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাইবার এলডিএল কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়াতে করে সাহায্য। তাই পারলে মাঝে মধ্যে একটা করে অ্যাভোকাডো খাওয়া শুরু করে দিন। এই ফল খেলেই শরীরের হাল ফিরবে।
নাশপাতিও খাওয়া জরুরি
নাশপাতিতে প্রচুর ফাইবার থাকে। এই ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে একাই একশো। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে নাশপাতি।
তবে মনে রাখতে হবে যে শুধু একটি ফল খেলেই এলডিএল কমে যাবে না। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি। তাহলেই এলডিএল-কে কাবু করা যাবে।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।