
(লিখছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক আশিস মিত্র)
ডায়াবেটিসকে কন্ট্রোলে রাখা ভীষণই জরুরি। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না। খারাপ হবে কিডনি থেকে শুরু করে হার্ট, চোখ, স্নায়ু সহ একাধিক অঙ্গ। তাই সাবধান হন। যেভাবেই হোক সুগারকে রাখুন নিয়ন্ত্রণে।
আর ভাল খবর হল, সুগার কন্ট্রোল কোনও জটিল কাজ নয়। বরং খাওয়ার পর একটি সহজ কাজ করলেই সুগারকে কাবু করতে পারবেন।
খাওয়ার পর হাঁটুন
একবারে ৩০ মিনিট হাঁটার প্রয়োজন নেই। বরং আপনি ভাগে ভাগ হাঁটুন। তাহলেই শরীরের হাল ফেরাতে পারবেন। এক্ষেত্রে খেয়ে হাঁটলে সবথেকে বেশি লাভ মিলবে।
আসলে খাওয়ার পর আমাদের সুগার লেভেল এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। আর সেই সমস্যার সহজ সমাধান করতে পারে হাঁটা। খাওয়ার পর হাঁটতে শুরু করলে সুগার লেভেল কমে যায়। অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস থাকে কন্ট্রোলে।
খাওয়ার পর কত মিনিট হাঁটা জরুরি?
একজন সুস্থ মানুষ দিনে মোটামুটি ৩ বার বড় মিল খান। এক্ষেত্রে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনার হল আমাদের তিনটি বড় মিল। আর চেষ্টা করুন প্রতিবার খাওয়ার পর ১০ মিনিট করে হাঁটার। এভাবে দিনে ৩০ মিনিট হেঁটে ফেলতে পারবেন। তাহলেই লাভ মিলবে।
বেশি উপকার পেতে চাইলে...
যদি বেশি উপকার পেতে চান, তাহলে না হেঁটে সিঁড়ি ওঠানামা করুন। ১০ মিনিট সিঁড়ি ওঠানামা করলেই উপকার মিলবে হাতেনাতে। দেখবেন সুগার লেভেল একবারে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ডায়েট নিয়ে সাবধান
অনেকেই ডায়েট নিয়ে বেশি ভাবেন না। আর সেটাই বড় ভুল। হু হু করে সুগার বাড়ে। তাই আজ থেকেই হাই ফাইবার শাক, সবজি বেশি করে খান। ডালিয়া, ওটস, আটার রুটিও রাখুন ডায়েটে। পাশাপাশি ডিম, মাছ, মাংস এবং সোয়াবিনও খেতে হবে। আর বাদের খাতায় রাখুন মিষ্টি, আলু, ভাজা খাবার, প্রসেসড খাবার ইত্যাদি।
ওষুধ খান
হাঁটছেন, ডায়েট করছেন ঠিক আছে। কিন্তু ওষুধ খেতে ভুলবেন না। যেই নিয়ম মেনে ওষুধ খেতে বলেছেন চিকিৎসক, খেয়ে যান। পাশাপাশি নিয়মিত সুগার মাপুন। ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখান। ব্যাস, এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।