
হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছে আবহাওয়া। নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গে। আর আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের সঙ্গেই কিছু ভাইরাস সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার ফলে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বরের সমস্যায়।
মাথায় রাখতে হবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই জ্বর কমে যায়। তারপরও যদি শরীরের তাপমাত্রা না কমে, শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে বা অন্য কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কিছু টেস্ট করা মাস্ট বলে জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: উৎসব দাস। তিনি বলেন, 'এই সময় জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। অনেকেই ভুগছেন। আর জ্বর যদি ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া মাস্ট। নইলে ভুগতে হবে।'
কী কী টেস্ট করতে হবে?
ডা: দাস জানালেন, জ্বর ২ থেকে ৩ দিনের বেশি থাকলে সবার প্রথমে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট পরীক্ষাটা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে রক্তের বিভিন্ন প্যারামিটার দেখা হয়। এছাড়া দেওয়া হয় ইএসআর। এই টেস্টটা বুঝতে সাহায্য করে শরীরে কোনও ইনফেকশন রয়েছি কি না।
আরও কিছু টেস্ট
মাথায় রাখতে হবে, এখন বর্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। যার ফলে বেড়েছে মশার দাপট। তার ফলে জ্বর হলে মশাবাহিত ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার কথাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এক্ষেত্রে জ্বর হলে ম্যালেরিয়া টেস্ট দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে দেওয়া হতে পারে ডেঙ্গি টেস্ট বলে জানালেন ডা: দাস।
তাঁর কথায়, 'ডেঙ্গির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা। জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গি এনএস১ টেস্ট দেওয়া হয়ে থাকে। আর জ্বর যদি ৫ দিন পেরিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ডেঙ্গি আইজিএম টেস্ট দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে কথা বলেই টেস্ট দিতে হয়।'
অন্যান্য টেস্ট
ডা: দাস জানালেন, মাঝে মধ্যেই করোনাভাইরাসের দাপট বাড়ে। তেমন মনে হলে, কোভিড টেস্টও দেওয়া হয়। এছাড়া কোনও সময় টাইফয়েড বাড়লে, তার টেস্টও দেওয়া হতে পারে।
জ্বরের চিকিৎসা কী?
সাধারণ ভাইরাল ফিভার নিজের থেকেই সেরে যায়। এক্ষেত্রে নিয়মিত শুধু প্যারাসিটামল খেতে হবে। পাশাপাশি মেটাবোলিজম বাড়ার জন্য খেতে হবে একটু বেশি পরিমাণ জল। এছাড়া প্রয়োজনে চিকিৎসক ভিটামিন দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে জ্বর সর্দি কাশি থাকলে অ্যান্টিঅ্যালার্জিক বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ দেওয়া হতে পারে। তাতেই সেরে উঠবেন।
আর যদি ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড হয়, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধ খেতে হবে। তাহলেই জ্বর সেরে যাবে।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।