
ইতিমধ্যেই বাংলায় HPV টিকা কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই এই টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ বছর বয়সী বালিকাদের দেওয়া হচ্ছে HPV টিকা। আর এই কর্মসূচি চলার সময়ই আবার নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কিছু সংখ্যক মানুষ বলতে শুরু করেছেন, HPV টিকার কার্যকারিতা খুব একটা ভাল নয়। এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এমনকী এই টিকা নিলে ফার্টিলিটি কমে যেতে পারে বলেও কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। যদিও এই সব কথার কোনও গুরুত্ব নেই বলেই সোজা জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ডাক্তারেরা। বরং তাঁরা এই টিকা নেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করলেন।
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: মৃগাঙ্ক মৌলি সাহা বলেন, 'হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে HPV টিকা। এই HPV ভাইরাস সার্ভাইকাল ক্যান্সারের জন্য ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ দায়ী। এই টিকা এইচপিভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। যার ফলে অ্যান্টিবডিটা পরবর্তীকালে সংক্রামিত হতে পারে না।'
তিনি আরও জানালেন, HPV ভাইরাস ট্রান্সমিটেড হয় যোনিদ্বারের মাধ্যমে। এই ভ্যাকসিনটা নিলে লোকাল অ্যান্টিবডি বেড়ে যায়। HPV ভাইরাসটা যোনিদ্বারের মধ্য দিয়ে ঢুকে যে সার্ভিক্সকে আক্রান্ত করে, সেই প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে এটা কার্যকরী।
এই টিকার কার্যকারিতা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি।
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা: তন্ময় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, 'বালিকাদের এই টিকা দিলে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে যাবে। পশ্চিমের দেশগুলোতে দেখা গিয়েছে, এখন জরায়ুর মুখের ক্যান্সার বা সার্ভাইকাল ক্যান্সারের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। মূলত স্ক্রিনিং এবং তার সঙ্গে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেই এই সাফল্য। এই ভ্যাকসিনের সম্বন্ধে অনেকে হয়তো বিভিন্ন রকমের মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাদেরকে জানতে হবে।'
একই মত বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা: মধুছন্দা করের। তিনি বলেন, 'আমি ৩৩ বছর শেষ করে ৩৪ বছরে পড়েছি ক্যান্সারের চিকিৎসায়। আমি এ রকম কথা আজ প্রথম শুনতে পাচ্ছি আপনাদের মাধ্যমে। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গত কয়েক বছরে কক্রেন রিভিউ বলে আমরা একটা রিভিউ বলি, যারা বিভিন্ন স্টাডি থেকে একটা পুলড রিভিউ করে। তারা ১৩০ কোটি প্রায় ভ্যাকসিনেটেড লোকের উপর টেস্ট করে দেখেছে কোনও বন্ধ্যাত্বের ব্যাপারই আসে না।'
পাশাপাশি এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও অভয় দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'খুবই মামুলি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। জ্বর, টিকা দেওয়ার জায়গায় একটু লাল ভাব, ফুলে ওঠা, একটু গা হাত পা ব্যথা করা ইত্যাদি। বন্ধ্যাত্ব বা প্রাণহানী হয় না।আসলে যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা সমাজ থেকে এই রোগটি নির্মূল করতে চায় না।'
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বাসু এই ভাইরাস নিয়ে এক ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে ২০২২ সালে ভারতে ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি মহিলা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মারা গিয়েছেন।' আর এই পরিসংখ্যানই চোখে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে কোন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি আমরা।
পাশাপাশি তিনি জানান, পৃথিবীর বহু দেশেই এই টিকা দেওয়া হয়। এমনকী ভারতের থেকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশেও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অহেতুক চিন্তা করে সত্যিই লাভ নেই। বরং বিনামূল্যে এই টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত।