
দুপুরে এক থালা গরম ভাত। সঙ্গে আলু ভাতে, ডাল, একটা ডিম ভাজা। বাঙালির কাছে এই খাবারের জুড়ি মেলা ভার। আবার অনেকের পছন্দ ফ্যান-ভাত। ভাত রান্না করার পর যে মাড় বা ফ্যান থাকে, সেটি রেখেই ভাতের সঙ্গে ফুটিয়ে নিলেই হল।
কিন্তু সাধারণ ভাত আর ফ্যান-ভাতের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী? এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না। কারণ, ভাত কী ভাবে রান্না করা হয়েছে এবং রান্নার সময় কতটা জল ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপর পুষ্টিগুণ অনেকটাই নির্ভর করে।
চাল রান্না করার সময় জলে কিছু জল-দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান চলে যেতে পারে। বিশেষ করে চালের বাইরের অংশে থাকা কিছু বি-ভিটামিন রান্নার পদ্ধতির কারণে জলে মিশে যেতে পারে। ভাত ঝরঝরে করে রান্না করার পরে সেই ফ্যান ফেলে দিলে এই দ্রবীভূত উপাদানগুলির কিছু অংশও চলে যেতে পারে।
অন্য দিকে ফ্যান ফেলে না দিয়ে ভাতের সঙ্গে খেলে সেই তরলের কিছু অংশ খাবারের মধ্যেই থেকে যায়। তাই ফ্যান-ভাতে রান্নার জলে চলে যাওয়া কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটাকে এমন কোনও খাবার বলা ঠিক নয়, যা সাধারণ ভাতের তুলনায় সব দিক থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর।
ফ্যান-ভাতে জলের পরিমাণও বেশি
ফ্যান-ভাতের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল এতে জল বেশি থাকে। ফলে গরমের দিনে বা শরীরে পর্যাপ্ত তরল প্রয়োজন হলে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে শুধু ফ্যান খেয়ে শরীরের সব প্রয়োজনীয় পুষ্টি মিটবে না।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। শরীরকে শক্তি দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি সুষম খাবারের জন্য ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসব্জি, ডিম, মাছ বা অন্য কোনও প্রোটিনের উৎস রাখা দরকার।
ডায়াবিটিস থাকলে কী করবেন?
এখানেও একটি ভুল ধারণা রয়েছে। ফ্যান-ভাত খেলেই রক্তে শর্করা কম বাড়বে; এমন কোনও নিয়ম নেই। ভাত এবং ফ্যান-ভাত দু’টিতেই চালের কার্বোহাইড্রেট থাকে। কতটা খাচ্ছেন, কী ধরনের চাল ব্যবহার করছেন এবং সঙ্গে কী খাবার রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ডায়াবিটিস বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে নিজের মতো করে খাবারের পরিমাণ ঠিক না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভাল।
তাহলে কোনটি খাবেন?
সাধারণ ভাত বা ফ্যান-ভাত; দুটিই খাওয়া যেতে পারে। ফ্যান ফেলে না দিলে রান্নার জলে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদানও খাবারের সঙ্গে থেকে যায়। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের আসল বিষয় হল পরিমাণ এবং পুরো খাবারের ভারসাম্য।
ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি, প্রোটিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখলে খাবার আরও পুষ্টিকর হয়। তাই ফ্যান-ভাতকে ‘সুপারফুড’ ভাবার যেমন কারণ নেই, তেমনই সাধারণ ভাতকে একেবারে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।