Advertisement

Beauty Cream Ban: ফর্সা হতে গিয়ে কিডনি ফেল! জনপ্রিয় এই ক্রিম ব্যান করল সরকার

ফর্সা হওয়ার ক্রিমে বিষাক্ত পারদ। পাকিস্তানি ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ ব্যবহারে বিকল হচ্ছে কিডনি। মহারাষ্ট্র জুড়ে নিষিদ্ধ হল এই প্রোডাক্ট।

মহারাষ্ট্র জুড়ে নিষিদ্ধ হল এই প্রোডাক্ট।মহারাষ্ট্র জুড়ে নিষিদ্ধ হল এই প্রোডাক্ট।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 06 Jul 2026,
  • अपडेटेड 4:27 PM IST
  • টজলদি ফর্সা হতে গিয়ে নিজের আসল জেল্লাই চিরতরে নষ্ট হতে পারে।
  • শহর-শহরতলিতে বিষাক্ত ক্রিম খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
  • বিভিন্ন গোডাউনে হানা দিচ্ছে পুলিশের টিম।

Goree beauty cream banned Maharashtra: ফর্সা হব। ভারতীয়দের এই উদ্ভট ভাবনা নতুন কিছু নয়। আর সেই কারণেই বাজারে এত 'ফেয়ারনেস ক্রিমে'র রমরমা। কিন্তু চটজলদি ফর্সা হতে গিয়ে নিজের আসল জেল্লাই চিরতরে নষ্ট হতে পারে। সৌজন্যে মেড-ইন-পাকিস্তান 'গোরি বিউটি ক্রিম' (Gori Beauty Cream)। শহরাঞ্চলের সবাই এর নাম শোনেননি বটে। কিন্তু পশ্চিম ভারতের গ্রাম-মফস্বলে অনেকেই এই সস্তার ক্রিম মাখেন। কিন্তু এই ক্রিম ব্যবহারের ফলেই বড়সড় শারীরিক সমস্যার মুখে পড়ছেন বহু মহিলা। এই গোরি ক্রিমের সাইড এফেক্টে কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর ব্যাপারও ঘটতে শুরু করেছে। একাধিক মহিলার এই লক্ষণ দেখা দিতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের ‘খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন’ (FDA) রাজ্যজুড়ে এই পাকিস্তানি স্কিন হোয়াইটনিং ক্রিমের কেনাবেচা ও ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

আপাতত নাগপুর-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর-শহরতলিতে বিষাক্ত ক্রিম খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন গোডাউনে হানা দিচ্ছে পুলিশের টিম। এই ক্রিম পেলেই বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হচ্ছে। 

মেক-ইন-পাকিস্তান ক্রিম
তদন্তে জানা গিয়েছে, নাগপুরের বেশ কিছু মহিলা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে এই ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ আনিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিগত প্রায় দু’বছর ধরে নিয়মিত এটি মুখে মাখছিলেন। সম্প্রতি ওই মহিলাদের শরীরে হঠাৎ করেই ক্রনিক কিডনির সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, আক্রান্ত প্রত্যেক মহিলাই একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বিউটি ক্রিম ব্যবহার করছেন। 

এর পরেই মহারাষ্ট্রের এফডিএ ওই ক্রিমের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। রিপোর্ট আসতেই চোখ কপালে ওঠে সরকারি আধিকারিকদের। দেখা যায়, ওই ক্রিমে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বহু গুণ বেশি পরিমাণে অত্যন্ত বিষাক্ত ‘মার্কারি’ বা পারদ এবং সিসার (Lead) মতো ভারী ধাতু মেশানো রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, পারদ ত্বকের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সম্পূর্ণ বিকল করে দেয়।

গায়েব এক্সপায়ারি ডেট, দেদার বিকোচ্ছিল অনলাইনে
তদন্তে আরও এক মারাত্মক তথ্য উঠে এসেছে। জব্ধ হওয়া পাকিস্তানি ক্রিমের কৌটো বা প্যাকেজিংয়ের গায়ে কোনও ধরনের ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ (Manufacturing Date) কিংবা মেয়াদ শেষের তারিখ (Expiry Date)-এর মতো বাধ্যতামূলক আইনি নথির উল্লেখ ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই পাকিস্তানি নিষিদ্ধ প্রোডাক্ট কীভাবে দেশের বাজারে এবং প্রথম সারির ই-কমার্স সাইটগুলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের চেম্বুর সহ একাধিক এলাকায় অবৈধভাবে এই ক্রিম মজুত রাখার দায়ে বেশ কয়েকজন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Advertisement

মনে রাখবেন
জন্মগতভাবে যে ত্বক আপনি পেয়েছেন, তার থেকে বেশি ফর্সা হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। ত্বকের জেল্লা ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ঘুম, খাওয়া, ব্যায়ামে নজর দেওয়া। সেই সঙ্গে রোদ এড়িয়ে চলা। আর প্রসাধনী ব্যবহারের সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি হল ত্বক-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলা।

Read more!
Advertisement
Advertisement