
প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কীকরণ লেবেল বা চিহ্ন শীঘ্রই চালু হতে পারে। FSSAI-কে সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে ১৩টি প্রশ্ন করেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর FSSAI-কে একটি ১৩টি প্রশ্নমালা পাঠায়। সেই সব প্রশ্নের উত্তরের জন্য FSSAI-কে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ডেডলাইনের আগেই গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৪৩ পাতার অ্যাফিডেভিটে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে FSSAI। সেই উত্তরের নির্যাস হল, যে সব খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি, সেই সব প্যাকেটজাত খাবারের প্যাকেটে লাল সতর্কতা চিহ্ন থাকবে। SSAI জানিয়েছে, হাই সুগার বা বেশি মাত্রায় চিনি, নুন ও ফ্যাট থাকলে, সেই খাবারের প্যাকেট লাল সতর্কতা থাকবে। প্যাকেটের উপরে বাঁ দিকে।
এখন প্রশ্ন হল কতটা চিনি ও ফ্যাটকে রেড ওয়ার্নিং হিসেবে ধরা হবে?
FSSAI জানিয়েছে, যদি ওই খাবারে বাড়তি চিনি ও ফ্যাট মেশানো হয়ে থাকে, তবেই লাল সতর্কতা থাকবে। এর মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে বাদ রেখেছে FSSAI। FSSAI-এর যুক্তি হল, CMR-NIN-এর ২০২৪ সালের খাদ্য নির্দেশিকায় প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষেত্রেও প্যাকেটের সামনের দিকে কোনও সতর্কতামূলক লেবেল থাকবে না। তার কারণ বিদ্যমান নিয়মেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তা হলে কি ট্রান্স ফ্যাট শরীরে জন্য ক্ষতিকর নয়? FSSAI-এর এ ক্ষেত্রে উত্তর হল, ফল বা দুধে যে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তার সঙ্গে ফাইবার ও পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু অ্যাডেড সুগার বা বাড়তি চিনি মেশালে তা শুধুই ক্যালোরি যোগ করে। কোনও পুষ্টি উপাদান নয়।
ফলের কনসেনট্রেট দিয়ে মিষ্টি করা কোনও পানীয়ে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কি সেটি সামনের দিকের সতর্কতামূলক লেবেল এড়িয়ে যেতে পারবে?
কোনও পণ্য প্যাকেটবন্দি হয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষাগারে সহজে বোঝা সম্ভব নয়, তাতে থাকা ফ্যাট আলাদাভাবে যোগ করা হয়েছে, নাকি তা আগে থেকেই উপাদানের মধ্যে ছিল। তা হলে সংস্থাগুলি যে তথ্য ঘোষণা করবে, তা যাচাই করবে কে? FSSAI বলছে, ICMR-এর নির্ধারিত সীমায় মোট চিনি ও মোট ফ্যাটের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। অথচ কয়েক পৃষ্ঠা পরেই বলা হয়েছে, হিসাবের ক্ষেত্রে যোগ করা চিনি ও যোগ করা ফ্যাটের পরিমাণ ধরা উচিত। তাহলে আসলে কোনটি সঠিক? FSSAI-এর নিজস্ব স্কুল-ফুড সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী,বেশি পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই ওয়ার্নিং বা সতর্কীকরণ কখন দেখা যাবে?
আদালত যা জানতে চায়: একটি ন্যায্য ও নির্দিষ্ট সময়সীমা কী হতে পারে?
FSSAI যা বলেছে, নিয়মগুলি চূড়ান্ত করতে প্রায় চার মাস সময় লাগবে, যার মধ্যে জনসাধারণের এবং ডব্লিউটিও-এর মতামতের জন্য ৬০ দিন অন্তর্ভুক্ত। এরপর কোম্পানিগুলোর জন্য ৩৬৫ দিনের একটি রূপান্তরকালীন সময় থাকবে, যা এফএসএসএআই-এর পরিভাষায় 'স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়ন সময়কাল' নামে পরিচিত। এছাড়াও, এফএসএসএআই-এর নীতি অনুযায়ী, লেবেলিং-এর পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এই সমস্ত বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি জুলাই ২০২৮-এ বাস্তবায়িত হবে। হলফনামায় কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এই দীর্ঘ সময় বাড়ানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, খাদ্য সংস্থাগুলোকে আগে থেকে ছাপানো মোড়ক সামগ্রীর ক্ষতি থেকে রক্ষা করা।
৩. জাঙ্ক ফুডকে কি ঘরে রান্না করা খাবারের চেয়ে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে?
আদালত যা জানতে চেয়েছে: দুটি পৃথক প্রশ্নে আদালত জানতে চেয়েছে, এই সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাত্রা বিবেচনা করা হবে কি না। এর অর্থ হবে অতি-প্রক্রিয়াজাত এবং ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মধ্যে পার্থক্য করা।
FSSAI যা বলেছে: না। প্রক্রিয়াকরণ এবং পুষ্টি "দুটি ভিন্ন ধারণা"। শুধুমাত্র চিনি, নুন এবং চর্বির পরিমাণই লেবেল নির্ধারণ করবে। খুব বেশি চিনিযুক্ত তাজা লেবুর শরবত এবং চিপসের প্যাকেট একই মাপকাঠিতে পরিমাপ করা হবে। সুতরাং প্রশ্নটি থেকেই যায়: প্রক্রিয়াকরণ কেন পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হয়েছিল?
৪. সবাই কি এটা পড়তে পারে?
আদালত যা জানতে চেয়েছিল: বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের জন্য এই লেবেলটি কীভাবে কাজ করবে, এবং প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের জন্য আলাদা সতর্কবার্তার পরিবর্তে FSSAI কেন একটি সম্মিলিত রেড হেক্সাগন চিহ্ন বেছে নিল?
FSSAI-এর জবাব: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, লেবেলটি শুধুমাত্র টেক্সট আকারে, ইংরেজি বা হিন্দিতে থাকবে। প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের জন্য কোনো প্রতীক বা ছবি থাকবে না। এফএসএসএআই-এর যুক্তি হলো, চিত্রলিপি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং 'শুধুমাত্র প্রতীক পুষ্টিগত জ্ঞানের বিকল্প হতে পারে না।'
এই বিষয়টি নিজেই বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করে:
শুধু ইংরেজি বা হিন্দি কেন, দুটোই কেন নয়? আর সেই লক্ষ লক্ষ ক্রেতাদের কী হবে, যারা এই দুটি ভাষার কোনোটিই অনর্গল পড়তে পারেন না?
চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলো প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের জন্য আলাদা সতর্কতা ব্যবহার করে। ভারত কেন সেগুলোকে একটিতে একত্রিত করছে?
লেবেলের আকারটি কানাডিয়ান মডেলের সঙ্গে 'সামঞ্জস্যপূর্ণ' বলে সহজভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্যাকেজের সামনের অংশের কত শতাংশ এটি জুড়ে থাকবে, সে বিষয়ে ভারতে কোনও নিয়মকানুন নেই কেন?