
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার টার্গেট ভারতের। আর এই লক্ষ্য তখনই পূরণ হবে, যখন দেশের নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যাবে। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রথম 'হেলথওয়েলথ সামিট'-এর উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এমনটাই দাবি করলেন। আর এই টার্গেট ছুঁতে সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি বাড়ানো, চিকিৎসা পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, চিকিৎসাকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বলেও জানালেন নাড্ডা।
অমৃত স্টোর ও জনঔষধি প্রকল্পের প্রশংসা নাড্ডার
চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মতো 'অমৃত' স্টোর এবং প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, 'অমৃত' (AMRIT—Affordable Medicines and Reliable Implants for Treatment) স্টোরগুলিতে প্রায় ৬,৫০০ ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এখানে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মেলে। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অমৃতের সুবিধা পেয়েছেন ৮.২ কোটি মানুষ।
শুধু তাই নয়, নিজের বক্তব্যে জনঔষধি স্টোরগুলির কথাও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই স্টোরগুলিতে বহু ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় কম দামে উন্নত মানের জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাড্ডা জানান, জনঔষধি স্টোরের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২,১০০ হয়েছে। এর ফলে রোগীদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ কমাতে চায় সরকার। এটা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাতে হয় এবং নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের জন্য কম দামি ওষুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আয়ুষ্মান ভারতে ক্যান্সার রোগীদের সুরক্ষা
দেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর এই বিষয়টা জানে সরকার। তাই এই জটিল রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নাড্ডা।
ক্যান্সার ধরা পড়ার পর রোগীদের চিকিৎসা শুরু হতে কতটা সময় লাগে, সে বিষয়ে 'দ্য ল্যানসেট'-এর একটি গবেষণার উল্লেখ করেন তিনি। নাড্ডার দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কারণে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন।
কোনও পরিবারের সদস্যের ক্যান্সার ধরা পড়লে সেই পরিবারকে কী ধরনের আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগে কিছু রোগী তাঁদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সঞ্চয়ের টাকা খরচ না করার অনুরোধ জানাতেন। তবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি পরিবারে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন।
নাড্ডার বক্তব্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।