
(লিখছেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান মীনাক্ষী মজুমদার)
তীব্র গরম চলছিল কয়েকদিন। তাপমাত্রা ছিল খুবই খুবই বেশি। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও চরমে উঠেছিল। যার ফলে অস্বস্তি বাড়ছিল। আর এমন পরিস্থিতিতেই অনেকে মুরগির মাংসের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। তাঁদের ভয়, গরমের মধ্যে চিকেন খেলে বুঝি শরীরের হাল বিগড়ে যেতে পারে। এটি ঠিক ঠাক হজম হবে না। অন্যান্য একাধিক সমস্যা শুরু হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হল, এই দাবি কি ঠিক?
গরমে কি চিকেন খেতে নেই?
প্রথমেই বলে রাখি, গরমে চিকেন খাওয়াই যায়। এটি অত্যন্ত সুষম প্রোটিন জাতীয় একটি খাবার। এই মাংস খুবই সহজপাচ্য। তাই গরমে অনায়াসে এই মাংস খাওয়া যায়।
তাহলে ভয়টা কোথায়?
অনেকেই রিচ করে চিকেন রান্না করেন। প্রচুর তেল, মশলা দিয়ে তাঁরা মুরগির মাংস রান্না করে খান। আর এটাই বিরাট ভুল। এই ভুলটা করলে তো গরমে সমস্যা হবেই।
আসলে প্রচণ্ড গরমে আমাদের পেটে উপস্থিত হজমে সাহায্যকারী কিছু উৎসেচক কাজ করতে পারে না। যার ফলে সমস্যা তৈরি হয়। খাবার হজম হতে চায় না। তাই রিচ করে মুরগির মাংস রান্না নয়।
কীভাবে রান্না?
হালকা করে চিকেন রান্না করতে হবে। আগের দিন রাতে দই, রসুন, পেঁয়াজ, নুন আর যা মশলা রয়েছে, সেগুলি দিয়ে চিকেন মাখিয়ে রেখে দিন। পরের দিন সকালে অল্প তেল দিয়ে রান্না করুন। এই উপায়ে রান্না করলে কোনও সমস্যা হবে না। দেখবেন মাংস দারুণ সিদ্ধ হবে। পাশাপাশি এটি হজমও হবে ঠিক ঠাক।
স্টু বানান
মুরগির মাংসের স্টু করেও অনায়াসে খাওয়া যায়। তাতে কোনও সমস্যা নেই। বরং এভাবে রান্না করে চিকেন খেলে শরীর ভাল থাকবে। পাবেন এনার্জি।
চিকেনের অনেক গুণ
চিকেন অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে প্রোটিন সহ একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। এই যেমন ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে মোটামুটি ৩১ গ্রাম প্রোটিন (বুকের মাংসের হিসেবে), ফ্যাট ৩.৬ গ্রাম, ভিটামিন বি৬, ভিটামন বি১২, নিয়াসিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ফসফরাস পাওয়া যায়।
তাই নিয়মিত চিকেন খেলে পেশি মজবুত হয়। এনার্জি বাড়ে। বিপাকের হার উন্নত হয়। রক্তাল্পতা দূরে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই নিয়মিত চিকেন খান।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।