Advertisement

Parenting Tips: রাতে শিশু কিছুতেই ঘুমোতে চায় না? সহজ টিপস দিলেন ড: মণীশ মন্নন

আপনার সন্তান কি রাতে দেরি করে ঘুমায়? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমের সঠিক রুটিন হিসেবে অবিলম্বে এই ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করুন।

ঘুমের সঠিক রুটিন হিসেবে অবিলম্বে এই ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করুন।ঘুমের সঠিক রুটিন হিসেবে অবিলম্বে এই ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করুন।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 28 Aug 2026,
  • अपडेटेड 10:13 PM IST
  • আজকাল অনেক বাড়িতেই শোনা যায়, বাচ্চারা রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যায়।
  • অবস্থা এমন যে, সন্তানের জন্য মা-বাবারই ঘুমের বারোটা বাজে।
  • ছোটখাটো অভ্যাসও শিশুর ঘুমের সময় এবং ঘুমের মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আজকাল অনেক বাড়িতেই শোনা যায়, বাচ্চারা রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যায়। শুধু তাই নয়, বার বার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হওয়া অনেক পরিবারেরই নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন যে, সন্তানের জন্য মা-বাবারই ঘুমের বারোটা বাজে। অনেক সময় বাবা-মায়েরা এর জন্য শুধু মোবাইল ফোন কিংবা শিশুর জেদকে দায়ী করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যার কিছু ছোটখাটো অভ্যাসও শিশুর ঘুমের সময় এবং ঘুমের মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গুরগাঁওয়ের পারস হেলথের পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড নিওনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডক্টর মণীশ মন্নন শিশুদের ঘুমের অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

শিশুদের কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন (AASM) প্রায় ৮৬৪টি প্রকাশিত গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে শিশুদের ঘুম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। সেই গবেষণা অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

অন্য দিকে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ঘুম ঠিক থাকলে শিশুর মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে, আচরণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তিও ভাল থাকে।

তাই ভোরে উঠলেই যে সন্তানের পড়াশোনা ভাল হবে, সেটা ভ্রান্ত ধারণা। বরং কলেজে ভর্তির আগে পর্যন্ত ৮-৯ ঘণ্টার কম ঘুম হলে তার ব্রেন ডেভেলপ করবে না। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও কমে যাবে। ফলে হিতে বিপরীত হবে। গবেষণা বলছে, ঘুম কম হলে তা অঙ্ক করা, মুখস্থ করার মতো কাজের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। একান্তই যদি সন্তানকে ভোরে তুলে পড়াতে চান, আগের রাতে সে যাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যায়, তা নিশ্চিত করুন। 

সন্ধ্যার এই ৫ অভ্যাস বদলান
ঘুমের আগে মোবাইল বা টিভি নয়
মোবাইল, ট্যাবলেট, টিভি কিংবা গেম খেলার মতো বিষয়গুলি ঘুমের ঠিক আগে শিশুর মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। তাই ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে মোবাইল, ট্যাবলেট বা অন্য কোনও ডিভাইস শোওয়ার ঘরের বাইরে রাখুন। শিশুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনারাও সকালের অ্যালার্মের অন্তত সাড়ে ৮ ঘণ্টা আগে শুয়ে পড়ুন। 

Advertisement

শুয়ে পড়া মানে কিন্তু ফোন ঘাঁটা নয়। একেবারে আলো নিভিয়ে ঘুম। 

ছুটির দিনে ঘুমের সময় বদলে ফেলবেন না
স্কুলের দিনগুলিতে যদি কোনও শিশু রাত ১০টায় ঘুমোয়, অথচ সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকে, তা হলে তার শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’ বিগড়ে যেতে পারে।

তাই ছুটির দিনেও ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় যতটা সম্ভব একই রাখার চেষ্টা করুন।

বিছানায় পড়াশোনা বা গেম নয়
বিছানায় বসে পড়াশোনা করা, ভিডিয়ো দেখা কিংবা গেম খেলার অভ্যাসও শিশুর ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে শিশুর মস্তিষ্কের কাছে বিছানার সঙ্গে ঘুমের বদলে অন্য কাজের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

তাই শোওয়ার ঘরকে যতটা সম্ভব শান্ত এবং কম আলোয় রাখুন। বিছানাকে মূলত ঘুমের জন্যই ব্যবহার করার অভ্যাস তৈরি করা ভাল।

শিশুর পড়াশোনার জন্য মেঝে বা টেবিল চেয়ার বাধ্যতামূলক করুন। 

শিশুকে ক্লান্ত করতে সারাদিন ব্যস্ত রাখবেন না
অনেক অভিভাবক মনে করেন, সারাদিন টিউশন, স্কুলের কাজ, খেলাধুলো এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলে শিশু রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। কিন্তু বিষয়টি সব সময় এমন নয়।

অতিরিক্ত ব্যস্ততায় সন্ধ্যার সময় শিশুর উপর চাপ বাড়তে পারে। তাই ঘুমের আগে কিছুটা শান্ত সময় দিন। বই পড়া কিংবা সন্তানের সঙ্গে শান্ত ভাবে কথা বলার মতো অভ্যাস ঘুমের আগে ভাল রুটিন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

রাতে ক্যাফিন ও ভারী খাবারের দিকে নজর রাখুন
কোলা, অতিরিক্ত ক্যাফিন এবং কড়া চা কিশোর-কিশোরীদের ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রাতে কী খাচ্ছে, তার দিকেও নজর রাখা জরুরি।

রাতের খাবার এবং স্ন্যাক্স খাওয়ার সময়ও ঘুমের রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করা ভাল। রাতে ঘুমের অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন। অর্থাৎ, ১১টায় ঘুমোতে গেলে ৮টায় ডিনার সেরে ফেলাই শ্রেয়। ঘুমের আগে এক গ্লাস দুধ বা টুকটাক স্ন্যাক্স নৈব নৈব চ। 

রাতে ঘুমের আগে পাকস্থলীতে খাবার থেকে গেলে তা ধীরে ধীরে হজম হতে থাকে। ফলে ব্রেন সম্পূর্ণ রিল্যাক্স করতে পারে না। ডিপ স্লিপে সমস্যা হয়। আপনি ভাববেন ঘুম হচ্ছে, কিন্তু আদতে ১০০% গভীর হচ্ছে না। 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কোনও শিশু যদি নিয়মিত জোরে নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো মনে হয়, বার বার ঘুম ভেঙে যায় কিংবা খুব অস্থির ভাবে ঘুমোয়, তা হলে বিষয়টিকে সাধারণ অভ্যাস বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়াও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত মাথাব্যথা থাকা কিংবা দিনের বেলা অস্বাভাবিকভাবে ঘুম পাওয়া; এগুলিও নজরে রাখার মতো লক্ষণ। এমন কোনও সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement