
সঙ্গীকে চুম্বন করার আগে হাফ গ্লাস জল পান করার পরামর্শ। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, চুম্বনের সময় লালার মাধ্যমে কিছু ক্ষতিকর উপাদান বা জীবাণু এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে সামান্য সতর্কতা নিলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রেমের সম্পর্কে চুম্বন একটি স্বাভাবিক ও আবেগঘন অভিব্যক্তি। কিন্তু ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চুম্বনের সময় লালার মাধ্যমে গ্লুটেনের মতো উপাদানও এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের সিলিয়াক রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। গ্লুটেন শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষতি হতে পারে এবং
আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যদি একজন ব্যক্তি গ্লুটেনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর তাঁর সঙ্গীকে চুম্বন করেন, তাহলে সামান্য পরিমাণ গ্লুটেন অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে চুম্বনের আগে যদি কেউ আধা গ্লাস জল পান করেন, তাহলে সেই গ্লুটেনের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই শনাক্ত করা যায় না।
এছাড়াও, লালার মাধ্যমে ছড়াতে পারে এপস্টাইন-বার ভাইরাস, যা ‘কিসিং ডিজিজ’ নামেও পরিচিত। এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে জ্বর, গলা ব্যথা, ক্লান্তি, এমনকি লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় আরও ইঙ্গিত মিলেছে, এই ভাইরাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকিও জড়িত থাকতে পারে।
তবে এতকিছুর পরেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুম্বন সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই নিরাপদ থাকা যায়।
চুম্বনের আগে জল পান করা
সঙ্গীর যদি কোনও সংক্রমণ থাকে, সেই সময় চুম্বন এড়ানো
মুখের স্বাস্থ্য পরিষ্কার রাখা
সব মিলিয়ে, ভালোবাসা প্রকাশে বাধা নেই, তবে একটু সচেতনতা আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।