Advertisement

Bathing in Winter: শীতে কম স্নান করলে আয়ু বাড়ে? VIRAL VIDEO নিয়ে সত্যিটা জানালেন ডাক্তার অরিন্দম বিশ্বাস

হাড়কাঁপানো শীতে জল থেকে দশ হাত দূরে থাকেন? স্নানের নাম শুনলেই গায়ে জ্বর আসে? অনেকে মনে করেন শীতে স্নান করার প্রয়োজন পড়ে না। আবার এমনও অনেক মানুষ আছেন যাদের শৈত্যপ্রবাহেও ঠান্ডা জলে স্নান না করলে চলে না। এটা কি ঠিক? শীতে স্নান করা বা না করা, কতটা স্নান করা, কীরকম জলে স্নান করা উচিত, শিশু ও বয়স্কদের স্নানের সময় কী নিয়ম মানা উচিত তা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন আরএন টেগোরের চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম বিশ্বাসের থেকে।

শীতে স্নান করা নিয়ে চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের মতশীতে স্নান করা নিয়ে চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের মত
মধুরিমা দেব
  • কলকাতা,
  • 07 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:26 PM IST

হাড়কাঁপানো শীতে জল থেকে দশ হাত দূরে থাকেন? স্নানের নাম শুনলেই গায়ে জ্বর আসে? অনেকে মনে করেন শীতে স্নান করার প্রয়োজন পড়ে না। আবার এমনও অনেক মানুষ আছেন যাদের শৈত্যপ্রবাহেও ঠান্ডা জলে স্নান না করলে চলে না। এটা কি ঠিক? শীতে স্নান করা বা না করা, কতটা স্নান করা, কীরকম জলে স্নান করা উচিত, শিশু ও বয়স্কদের স্নানের সময় কী নিয়ম মানা উচিত তা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন আরএন টেগোরের চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম বিশ্বাসের থেকে।

প্র: শীতে রোজ স্নান করা কি জরুরি?
উ:
নিশ্চয় জরুরি। কারণ, শীতে আমাদের ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যায়। শরীরে নোংরা জমে থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যায় স্নান করলে। তবে শীতে সাবান ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। বেশি সাবান ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ফলে চুলকানি, সংক্রমণ হতে পারে। ত্বক চুলকোলে নখের ময়লা থেকে সংক্রমণ হতে পারে। একজিমা হতে পারে। সেলুলাইটিসও হতে পারে। 

স্নান করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে শীতে মাথায় বেশি জল দেবেন না। ভেজা চুলে ঠান্ডা হাওয়া লাগলে শরীরের তাপমাত্রার তারতম্য হয়। ফলে সর্দি, কাশি হতে পারে। সবসময় যে ভাইরাল জ্বর হয় তা নয়। ঠান্ডা লেগেও শরীরে প্রদাহ তৈরি হয়। এই সময়ে বাতাসে উড়তে থাকা ভাইরাস অনেক সময় শরীরে প্রবেশ হয়। ফলে সর্দি, কাশির প্রবণতা বাড়ে। 

প্র: শীতে ঠান্ডা না গরম জলে স্নান করা উচিত?
উ:
প্রথমত, স্নানের সময় পরিবর্তন করা উচিত। কনকনে ঠান্ডায় স্নান না করে দিনের যে সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকবে সেই সময়ে উষ্ণ জলে স্নান করা উচিত।

প্র: শীতে রোজ স্নান না করলে কি লাইফ স্প্যান বাড়ে?
উ:
এই কথার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সারা বিশ্বে যতদিন না এই তত্ত্ব গৃহীত হচ্ছে ততদিন বলা যাবে না যে রোজ স্নান না করলে লাইফ স্প্যান বাড়ে।

Advertisement

প্র: শীতে রোজ স্নান করলে কি গুড ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি হয়?
উ:
এরও কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্নানের পর শরীরের ময়লা পরিষ্কার হয়। স্নান করলে গুড ব্যাকটেরিয়ার কোনও ক্ষতি হয় না। শরীরে অ্যান্টি-বায়োটিক ব্যবহার করলে একমাত্র গুড ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি হয়। স্নান করলে শুধু শরীরের ময়লা বের হয়। নোংরা থেকে যে ব্যাকটেরিয়া আসে তা পরিষ্কার হয়। তাই রোজ স্নান করা জরুরি।

প্র: বয়স্ক বা শিশুদের জন্য কী টিপস দেবেন?
উ:
অবশ্যই বয়স্কদেরও শীতে স্নান করা উচিত। তবে বেলায় যে সময় রোদ উঠবে বা তাপমাত্রা একটু বেশি থাকবে সেই সময়ে। খুব সকাল বা ভোরে না করাই ভালো। বয়স্কদের সাবধান থাকা উচিত, নিউমোনিয়া হতে পারে। বেশি গা ভেজানো উচিত নয়। এছাড়া, আর্থরাইটিস রোগীদের ঠান্ডা জলে ব্যথা বাড়তে পারে। তাই তাদের সামান্য গরম জলে স্নান করা উচিত।

চিকিৎসক জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে গা স্পঞ্জিং করে দেওয়াই ভালো। ছোটরা যারা খেলাধুলো করে, ঘাম হয় তাদের ক্ষেত্রে স্নান করানো উচিত। নিদেনপক্ষে স্পঞ্জিং হলেও করানো উচিত।

ডঃ অরিন্দম বিশ্বাস আরও জানান, শীতে ১-২ বারের বেশি স্নান না করাই ভালো। স্নান করে ফ্যান চালানো উচিত নয়। জিম বা ওয়ার্কআউটের পর সাবান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে স্নান করতেই পারেন। 

সুতরাং, যারা শীতে স্নান করা থেকে দূরে থাকেন তারা নিয়ম করে স্নান করা শুরু করুন। শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে। সেইসঙ্গে ত্বকের রোগও হবে না। বরং গা গরম করতে তেলের ম্যাসাজ নিতে পারেন, আরাম পাবেন।

Read more!
Advertisement
Advertisement