Advertisement

Paraquat Dichloride: ফসলের ওই কীটনাশকই আসলে মৃত্যুফাঁদ, বাংলার চিত্র ঠিক কী? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

নিষিদ্ধ হয়েছে প্যারাকোয়াট। এটি একটি ভয়ঙ্কর বিষ। এটি খেয়ে পশ্চিমবঙ্গেও অনেকে আত্মহত্যা করেন। এটি নিয়ে মুখ খুললেন বিশেষজ্ঞরা।

নিষিদ্ধ প্যারাকোয়াটনিষিদ্ধ প্যারাকোয়াট
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 17 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:00 PM IST
  • নিষিদ্ধ হয়েছে প্যারাকোয়াট
  • এটি একটি ভয়ঙ্কর বিষ
  • এটি খেয়ে পশ্চিমবঙ্গেও অনেকে আত্মহত্যা করেন

প্যারাকোয়াট ডাইক্লোরাইড একটি ভয়ঙ্কর বিষ। এটি আমাদের দেশের কৃষিক্ষেত্রে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে। আর দেখা গিয়েছে, এই প্যারাকোয়াট খেয়েই আত্মহত্যা করেছেন অনেকে। কিন্তু অবশেষে এই আগাছানাষককে নিষিদ্ধ করল কেন্দ্রীয় সরকার। চিকিৎসক ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে এই রাসায়নিক আগাছানাশক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আর সেই কথা শুনল সরকার। এবার নিষিদ্ধ করা হল এই ভয়ঙ্কর বিষকে। 

কেন্দ্রীয় সরকারের এই কাজকে স্বাগত জানিয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বাসু বলেন, 'প্যারাকোয়াট ডাইক্লোরাইডের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত আগাছানাশক নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ। প্যারাকোয়েট বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী কীটনাশক ও আগাছানাশক হিসেবে পরিচিত। এর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হলে বর্তমানে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও বহু ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটে। এতে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি।'


একই কথা বললেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল। তিনি বলেন, 'প্যারাকোয়েট ডাইক্লোরাইড দোকানে চাইলেই পাওয়া যায়। এই বিষ খেয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করেন। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে এই ধরনের কেস হামেশাই পাওয়া যায়। আর মুশকিল হল, প্যারাকোয়াট ডাইক্লোরাইড খেয়ে নিলে খুব ভয়ঙ্কর মৃত্যু হয়। রোগী ভীষণ কষ্ট পেতে পেতে প্রাণ হারান। কিন্তু কোনও ওষুধ না থাকায় চিকিৎসক হিসেবে কিছুই করার থাকে না।'

আসলে কৃষিপ্রধান দেশ ভারত। এখানে কীটনাশক খুবই সহজলভ্য। তাই আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে কীটনাশক গ্রহণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই প্রসঙ্গে ডা: বাসু বলেন, 'কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যাও একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ভারতে মোট আত্মহত্যার ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ কীটনাশকের বিষক্রিয়ার কারণে ঘটে বলে মনে করা হয়।' 

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানালেন, কিছু বছর আগে একটা হাসপাতালভিত্তিক সমীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায় তীব্র বিষক্রিয়ায় সামগ্রিক মৃত্যুহার প্রায় ১৫ শতাংশ। কিন্তু প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ায় মৃত্যুহার প্রায় ৭৪ শতাংশ। এই সমীক্ষায় দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে বিষপানের সহজলভ্যতা অনুযায়ী প্যারাকোয়াট পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তাই প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ করা খুব জরুরি ছিল বলে মনে করেন তিনি।

Advertisement

প্যারাকোয়াটে ভয়ঙ্কর মৃত্যু
ডা: পাল বলেন, 'এই বিষপানের কারণে ফুসফুস ও কিডনিতে বিরাট প্রভাব পড়ে। খেতে গিয়ে মুখে কেমিক্যাল বার্ন হয়। আর এই বিষপানের পর সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় না। ধীরে ধীরে মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যু ভয়ঙ্কর। তাই প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি ছিল। আর সেটা সরকার করেছে।'


 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement