
বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। তার সঙ্গে আবহাওয়ার পরিবর্তন। এই দুইয়ের জেরে অনেকেরই বার বার কাশি হচ্ছে। যাঁদের সাধারণত শ্বাসকষ্টের সমস্যা নেই, তাঁরাও দূষিত বাতাসে কাশির সমস্যায় ভুগতে পারেন। কখনও কখনও এই কাশি কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। আবার কারও ক্ষেত্রে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। তাই বার বার কাশি হলে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
দূষণে কেন বাড়ে কাশি?
বাতাসে থাকা ধুলো এবং দূষণের সূক্ষ্ম কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে যায়। এর ফলে শ্বাসনালিতে জ্বালা ও প্রদাহ হতে পারে। সেখান থেকেই শুরু হয় কাশি। শ্বাসযন্ত্র ও ঘুমের রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনু মদনের মতে, দূষিত এলাকায় থাকার পর কাশি শুরু হলে এবং অন্য কোনও গুরুতর উপসর্গ না থাকলে দূষণ তার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে কাশি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দূষণের কাশি থেকে বাঁচবেন কী ভাবে?
১. দূষিত বাতাস এড়িয়ে চলুন: নিয়মিত বাতাসের গুণমান বা AQI দেখে নিন। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অকারণে বাইরে বেরোবেন না। ওই সময়ে বাইরে শরীরচর্চা করাও এড়িয়ে চলুন। দ্রুত শ্বাস নিলে বেশি দূষিত বাতাস ফুসফুসে ঢুকতে পারে।
২. বাইরে মাস্ক পরুন: বাইরে যেতেই হলে মুখে ভাল ভাবে বসে এমন N95 মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি বাতাসের অনেক সূক্ষ্ম দূষণকণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢোকার ঝুঁকি কমাতে পারে।
৩. ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন: বাইরে দূষণ বেশি থাকলে জানলা বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। ঘরের মধ্যে ধূমপান করবেন না। ধূপকাঠি বা ধোঁয়া তৈরি করে এমন জিনিসের ব্যবহারও কমান।
৪. গলার যত্ন নিন: পর্যাপ্ত জল পান করুন। গরম জল বা উষ্ণ পানীয় গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক বছরের বেশি বয়সিদের কাশিতে মধু কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কখনও মধু দেবেন না।
কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন?
কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, তীব্র বুকে ব্যথা, রক্ত ওঠা কিংবা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দূষণের কারণে হওয়া কাশি সামান্য মনে হলেও দীর্ঘ দিন অবহেলা করবেন না।