
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিনের চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
আমাদের দেশে অনেকেই কৃমির সমস্যায় ভোগেন। ছোট থেকে বড়, সকলের শরীরেই বাসা বাঁধতে পারে কৃমি। আর এই পরজীবী একবার দেহে প্রবেশ করলে দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করতে পারে। যার ফলে অপুষ্টি থেকে শুরু করে অ্যানিমিয়ার মতো জটিল সমস্যা নিতে পারে পিছু। তাই কৃমির সমস্যার প্রথমেই চিকিৎসা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধ খেলে অনায়াসে কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তবে মুশকিল হল, কৃমির ওষুধ নিয়ে একাধিক ঠিক-ভুল ধারণা রয়েছে। এই যেমন অনেকেই মনে করেন, এই ওষুধ পরিবারের সকলের খাওয়া উচিত। তাই তাঁরা এই ওষুধ খেতে চান। আর আজকের লেখায় এই প্রশ্নেরই উত্তরটা দেব। তবে তার আগে কৃমি নিয়ে দুই-চারটি কথা না বললেই নয়।
কৃমি কী?
সবার প্রথমে এই প্রশ্নের উত্তর দিই। আসলে কৃমি হল এক ধরনের পরজীবী। এই পরজীবী অন্ত্রে বাসা বাঁধে। আমরা যেই খাবার খাই, তার থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে।
সাধারণত, ছোটদের মধ্যেই এই রোগের প্রকোপ বেশি। তবে বড়রাও এই পরজীবীর ফাঁদে পড়তে পারে।
লক্ষণ কী কী থাকে?
এক্ষেত্রে ছোটদের লক্ষণ এবং বড়দের লক্ষণ কিছুটা আলাদা হয়। প্রথমে ছোটদেরটা বলি-
১. শিশু অপুষ্টির শিকার হতে পারে
২. তার ওজন এক জায়গায় আটকে থাকতে পারে
৩. পেটে ব্যথা হতে পারে
৪. ব্রেনের বিকাশ ধীর গতিতে হতে পারে
৫. রক্তাল্পতা নিতে পারে পিছু
৬. পায়ুদ্বার চুলকাতে পারে
বড়দের ক্ষেত্রে এই সব উপসর্গ থাকে-
১. রক্তাল্পতাই হল সবথেকে বড় লক্ষণ
২. এছাড়া পেট ব্যথা হতে পারে
৩. পায়ুপথে চুলকানি হতে পারে
৪. দুর্বলতা থাকতে পারে
৫. এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিক্যাল লক্ষণ থাকতে পারে
কেন হয়?
সাধারণ খাবার এবং জল থেকেই এই পরজীবী শরীরে প্রবেশ করে। তাই যেখানে দারিদ্র বেশি, পরিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব রয়েছে, সেই সব অঞ্চলে কৃমির সমস্যা বেশি দেখা যায়।
ওষুধ কি গোটা পরিবারকে দেওয়া হয়?
না, বিষয়টা সবসময় এমন নয়। যখন মনে হয় শুধু রোগীকে ওষুধ দিলেই সমস্যাকে কাবু করা যাবে, তখন তাকেই দেওয়া হয়। তাতেই কাজ হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সকলকেই এই ওষুধ খেতে বলতে হয়। রোগীকে একা ওষুধ দেওয়া হবে না পরিবারকে খেতে বলা হবে, এই সিদ্ধান্তটা একান্তই চিকিৎসকের।
এই প্রসঙ্গে বলি, কৃমির কার্যকরী ওষুধ রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণত অ্যালবেনিডাজোল জাতীয় ওষুধই দেওয়া হয়।
কীভাবে প্রতিরোধ?
ব্যাস, এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।