
শ্যামা চালের নাম শুনেছেন? আগেকার দিনে মা-ঠাকুমারা অনেকেই উপোসের দিন এই 'চালে'র ভাত খেতেন। তবে শ্যামা চাল আসলে চাল নয়, এটি এক ধরনের মিলেট বা ক্ষুদ্র দানাশস্য। ইংরেজিতে নাম বার্নইয়ার্ড মিলেট। বাংলার সুপ্রাচীন এই দানাশস্যই কিন্তু ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন-সহ নানা খনিজে ভরপুর। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য বেস্ট।
শ্যামা চাল
ভারতের মিলেট গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম বার্নইয়ার্ড মিলেটে প্রায় ১১.২ গ্রাম প্রোটিন, ১০.১ গ্রাম খাদ্যতন্তু এবং ১৫.২ মিলিগ্রাম আয়রন থাকতে পারে। তবে জাত, প্রক্রিয়াকরণ ও রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী পুষ্টিগুণের পরিমাণ বদলায়। এই শস্যে গ্লুটেন থাকে না। তাই গ্লুটেন অসহিষ্ণু ব্যক্তিরা এটি খেতে পারেন। তবে প্যাকেটজাত খাবারে অন্য শস্য মেশানো রয়েছে কি না, দেখে নেওয়া জরুরি।
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে
শ্যামা চালের অন্যতম বড় গুণ এর তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। অর্থাৎ, পরিশোধিত সাদা চালের মতো দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ানোর প্রবণতা কম হতে পারে। একটি গবেষণায় বার্নইয়ার্ড মিলেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫০ এবং তাপপ্রক্রিয়াকরণের পর ৪১.৭ পাওয়া গিয়েছিল। টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তির উপর করা পরীক্ষায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাতেও উন্নতি দেখা যায়। তবে শুধু এই চাল খেলেই ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নয়।
২. পেটের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
এই শস্যে থাকা খাদ্যতন্তু মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতেও ভূমিকা থাকতে পারে। পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
৩. আয়রন ও প্রোটিনে ভরপুর
শ্যামা চালে প্রোটিন ও আয়রন রয়েছে। শরীরের পেশি গঠন এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে এই দুই পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে রক্তাল্পতা সারানোর একমাত্র উপায় এই চাল নয়।
কীভাবে খাবেন?
রান্নার আগে শ্যামা চাল ভাল করে ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তার পর ভাত, খিচুড়ি কিংবা পোলাওয়ের মতো রান্না করতে পারেন। প্রথমে অল্প পরিমাণে শুরু করুন। ডাল, সবজি ও প্রোটিন(চিকেন, মাছ, ডিম বা পনির)-এর সঙ্গে খেতে পারলে দারুণ।