
আধুনিক জীবনযাত্রার এক অতি পরিচিত সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে পিঠের ব্যথা বা ঘাড়ের আড়ষ্টতা। আগে মনে করা হত, বয়সের ভারেই বুঝি পিঠের ব্যথা বাড়ে। কিন্তু এখন স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে কলেজের ছাত্রছাত্রী কিংবা তরুণ পেশাদাররাও এই সমস্যায় আকছার ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা বা চোট আঘাত নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাসই মূলত দায়ী।
অজান্তেই কোন কোন অভ্যাসের কারণে শিড়দাঁড়ার ক্ষতি হচ্ছে, জেনে নিন।
১. ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা বসে থাকা
অফিসের কাজ হোক বা পড়াশোনা, একটানা এক জায়গায় বসে থাকার অভ্যাস মেরুদণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে পিঠের নিম্নাংশের (লোয়ার ব্যাক) পেশি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। পেশি দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরের পুরো ভারটাই সরাসরি শিড়দাঁড়ার ওপর এসে পড়ে, যার জেরে শুরু হয় তীব্র ব্যথা।
২. স্মার্টফোনের নেশা এবং 'টেক্সট নেক'
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকাল বেশিরভাগ মানুষই ফোন ঘাঁটার সময় সামনের দিকে ঘাড় ঝুঁকিয়ে রাখেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ভুল ভঙ্গিমা বা পোশ্চারকে বলা হয় 'টেক্সট নেক' (Text Neck)। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঘাড় ঝুঁকিয়ে রাখলে কাঁধ এবং ওপরের দিকের মেরুদণ্ডে একটানা প্রবল চাপ পড়ে। দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন বা অ্যালাইনমেন্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
৩. ভুল ভঙ্গিমায় ঘুম
ভুল ভঙ্গিমায় ঘুমানোর অভ্যাসও অজান্তেই মেরুদণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করছে। অতিরিক্ত উঁচু বালিশ বা খুব নরম গদি ব্যবহার করলে মেরুদণ্ড সঠিক সাপোর্ট বা বিশ্রাম পায় না। এর ফলেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সারা শরীরে আড়ষ্টতা বা ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. ওজন বৃদ্ধি বা ভুঁড়ি
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চারপাশে মেদ বা ফ্যাট জমলে তা মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। শরীরের ভারসম্য রক্ষার্থে তখন মেরুদণ্ডকে অতিরিক্ত কসরত করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি পিঠের ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫. ভারী জিনিস তোলার ভুল পদ্ধতি
মেঝে থেকে ভারী কিছু তোলার সময় অনেকেই হাঁটু না ভাঁজ করে সরাসরি কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এটি মেরুদণ্ডের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ভুল পদ্ধতির ফলে লোয়ার ব্যাক ইনজুরি এবং 'স্লিপ ডিস্ক'-এর মতো গুরুতর বিপদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ভারী কিছু তোলার হলে সর্বদা হাঁটু মুড়ে বসে তবেই তা তোলা উচিত।
শেষ কথা: সুস্থ ও ব্যথামুক্ত জীবন চাইলে আজই এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন হন। বসার ভঙ্গিমা ঠিক রাখা এবং মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে একটু হাঁটাচলা করা মেরুদণ্ড ভালো রাখার প্রথম শর্ত।