
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন নতুন আবিষ্কার মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলে। আগে মানুষ ভারী চশমা ব্যবহার করত। কিন্তু পরে ফাইবার গ্লাস বা হালকা ওজনের চশমা সে জায়গা নিয়েছে এবং বর্তমানে কন্ট্যাক্ট লেন্সের ব্যবহার ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চশমা ব্যবহারের ঝামেলা এড়াতে এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে তরুণ প্রজন্মের কাছে কন্ট্যাক্ট লেন্সই প্রথম পছন্দ।
আপনি কি জানেন, একটানা কতক্ষণ চোখে লেন্স রাখা উচিত? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে এবং এর চেয়ে বেশি সময় ধরে লেন্স পরলে তা দৃষ্টিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনিও যদি সারাদিন বা গভীর রাত পর্যন্ত লেন্স পরে থাকেন, তবে এই তথ্যটি আপনার জন্য।
নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ব্যবহার করবেন না
'ফোকাস ক্লিনিকস'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ 'ডেইলি-ওয়্যার' সফট কন্ট্যাক্ট লেন্স দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পরা নিরাপদ বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ মানুষ সহজেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করতে পারেন, তবে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লেন্স পরা বিপজ্জনক হতে পারে। আপনি যদি প্রথমবার লেন্স ব্যবহার করেন, তবে চোখকে এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে শুরুতে দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা লেন্স পরুন।
দীর্ঘ সময় ধরে লেন্স পরা কেন ক্ষতিকর?
'অপটোমেট্রিস্টস ডট অর্গ' (Optometrists.org)-এর তথ্য মতে, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের চোখের বাইরের স্তর বা কর্নিয়া সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। কিন্তু লেন্স পরলে তা একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
দীর্ঘ সময় ধরে কন্ট্যাক্ট লেন্স পরলে কর্নিয়ায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে পারে; চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'হাইপোক্সিয়া' বলা হয়। অক্সিজেনের এই ঘাটতির ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জল পড়া এবং তীব্র জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
'ওভারওয়্যার সিনড্রোম' এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি
সিডিসি (CDC)-র মতে, দীর্ঘ সময় ধরে লেন্স ব্যবহারের এই অসতর্কতাকে 'কন্ট্যাক্ট লেন্স ওভারওয়্যার সিনড্রোম' বলা হয়। লেন্স পরে ঘুমনো বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে লেন্স ব্যবহারের ফলে চোখের সংক্রমণ এবং কর্নিয়াল আলসারের ঝুঁকি ৬ থেকে ৮ গুণ বেড়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি কর্নিয়াকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।