
রবিবার, ৮ নভেম্বর পালিত হবে কালীপুজো। আলোর উৎসবে সামিল হবে বাংলা। জ্বালানো হবে মোমবাতি। ফাটানো হবে তুবড়ি, রংমশাল, ফুলঝুরি, চড়কির মতো বাজি। তবে এই দিন বাজি ফাটানোর সময় অবশ্যই চোখের খেয়াল রাখতে হবে। নইলে যে কোনও সময় চোখ বিপদে পড়তে পারে। তাই আর সময় নষ্ট না করে কনসালট্যান্ট অফথ্যালমোলজিস্ট ডা: গুঞ্জা চৌধুরীর থেকে কালীপুজোয় চোখের সুরক্ষায় কী করবেন, সেটা জেনে নিন।
সাধারণ চশমা ব্যবহার করুন
কালীপুজোয় চোখের খেয়াল রাখতেই হবে। সেক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষায় সাধারণ চশমা, অর্থাৎ কোনও পাওয়ার ছাড়া চশমা পরলেও অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। তাহলে বাজির ফুলকি চোখে সরাসরি যাবে না।
কিছু দিয়ে ঢেকে বাজি ফাটাবেন না
অনেক সময় মাটির হাঁড়ি বা অন্য পাত্রের নীচে বোমা রেখে ফাটানো হয়। আর সেটাই বিপদ ডেকে আনে। এমনটা করার কারণে আচমকা বিস্ফোরণে মুখ ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। বছরের পর বছর কালীপুজোয় এভাবেই বহু মানুষ গুরুতর চোট পেয়েছেন। তাই এই ধরনের কাজ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
বাজি ধরে চোখে হাত নয়
বাজি ধরার পর এবং চোখে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিন।
আসলে বাজিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ চোখে জ্বালাভাব ও চুলকানি তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলি চোখের স্থায়ী ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই সাবধান হন।
না ফাটা বাজির থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন
কোনও বাজি জ্বালানোর পর না ফাটতেই পারে। তবে তখনই তার সামনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষত, বাজির আশপাশে কোনও স্ফুলিঙ্গ বা ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকা অংশ দেখলে দূরত্ব বজায় রাখুন।
কনট্যাক্ট লেন্স পরলে বিশেষ সতর্কতা
যাঁরা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁরা বাজি ফাটানোর সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। দীর্ঘক্ষণ বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে চোখে অস্বস্তি হতে পারে। এমনকী জ্বালা করতে পারে।
চোখে বাজির ফুলকি ঢুকলে কী করবেন?
বাজির কোনও জ্বলন্ত কণা বা গরম কিছু চোখে ঢুকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিষ্কার জল ব্যবহার করলেই হবে। কলের জল বা পানীয় জল, যে কোনও পরিষ্কার জল ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে চোখের উপর বরফ বা ঠান্ডা সেঁকও দিতে পারেন।
তবে যত দ্রুত সম্ভব কাছাকাছি কোনও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। কালীপুজোর রাতে অনেক চোখের হাসপাতালে রাতেও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা খোলা থাকে।
আর একটা কথা, চোখে কোনওভাবে আঘাত লাগলে কখনও চোখ ঘষবেন না। পাশাপাশি হলুদ গুঁড়ো, নারকেল তেল বা অন্য কোনও ঘরোয়া উপাদান চোখে কিংবা চোখের চারপাশে লাগাবেন না। চোখের ভিতরে ছোট কোনও কণা ঢুকে থাকলে ঘষাঘষি বা এই ধরনের ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করবেন না। তাতে আঘাত আরও বাড়তে পারে। তার পরিবর্তে প্রায় ১০ মিনিট পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। এরপর যত দ্রুত সম্ভব চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র একটা অনুমান দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছে। এর বাস্তব প্রতিফলন যে ঘটবেই, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।